বদলে যেতে শুরু করেছে শিবচর থানার চিত্র

মাদারীপুরের শিবচর থানায় আগে পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই টাকা লাগতো বলে সাধারণ মানুষের মুখে শোনা যেতো। আজ সেই থানার ভেতরে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে বড়ো বড়ো অক্ষরে লেখা 'থানায় জিডি-অভিযোগ করতে কোনো টাকা লাগে না।'

গত বুধবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় সাধারণ ডায়রি করতে আসেন শিবচর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড শিবরায়েরকান্দি গ্রামের রহমান খানের মেয়ে রহিমা বেগম (৩০)। কথার এক পর্যায়ে তিনি বলেন, 'জিডি করতে আমার এক টাকাও লাগেনি। শুনেছি থানায় নতুন বড়ো বাবু এসেছেন। তিনি নাকি কোন টাকা-পয়সা খান না। এজন্য কোনো পুলিশ মনে হয় আমার কাছে টাকা পয়সা চায়নি। আগে জিডি করতে হলে একশত টাকা থেকে পাঁচশত টাকা লাগতো।'

এর আগের দিন মঙ্গলবার (১৩ আগস্ট) উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের ফজলুকরিম বেপারীকান্দি গ্রামের সামাদ মাদবরের ছেলে মিজানুর রহমান ও বাঁশকান্দি মানকিরচর গ্রামের মৃত আজাহার খলিফা ছেলে আলামিন খলিফা সঙ্গে থানায় কথা হয়। তারা দুইজনই থানায় অভিযোগ করতে এসেছিলেন। তারা বলেন, 'এ নিয়ম থানায় কতদিন কার্যকর থাকবে জানি না। তবে নতুন ওসি আবুল কালাম আজাদ সাহেবের মতো সবাই যদি হতো সৎ ও নিষ্ঠাবান, তাহলে পুলিশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়তো।

একজন পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে জানা যায়, অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ গত ৩১ জুলাই শিবচর থানায় যোগদান করেছেন। যোগদানের পর থেকে তিনি শিবচর থানাকে তার মনের মতো করে সাজাচ্ছেন। শিবচর থানাকে পুরো সিসিটিভির মাধ্যমে ঘিরে রাখা হয়েছে। বসানো হয়েছে ল্যাম্পপোস্ট। অল্প কয়েকদিনে পুরো থানাকে আলোকিত করে ফেলেছেন।

এর আগে তিনি ডিএমপিতে ছিলেন। তিনি আইজিপি পদকপ্রাপ্ত ও জাতিসংঘ শান্তি পদকপ্রাপ্ত। তিনি সৎ ও নিষ্ঠাবান এক পুলিশ কর্মকর্তা। তিনি যোগদান করার পর সমস্ত পুলিশ সদস্যকে ডেকে বলেন, 'আমাকে এক টাকাও দিতে হবে না। আপনারা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করবেন। থানায় কেউ যদি জিডি ও অভিযোগ করতে আসে তাহলে তাদের কাছ থেকে কোন টাকা পয়সা নিবেন না।'

অতীতের অফিসার ইনচার্জ আর বর্তমানের অফিসার ইনচার্জ অনেক তফাৎ। বিগত ১০-১৫ বছরের মধ্যে এমন পুলিশ কর্মকর্তা শিবচর থানায় যোগদান করেছিলেন এলাকাবাসী মনে করতে পারে না!

শিবচর থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'আমাদের মাননীয় চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এমপি যেমন ব্যাপক উন্নয়ন করে শিবচরটাকে মনের মতো করে সাজিয়েছেন। তেমনি সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে পুলিশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা বাড়ানো যায় কি না সেজন্য আমি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচিছ। সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে পুলিশ জনগণের বন্ধু।'

আরও পড়ুন: নকলায় মজুরীর পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে খুন হলেন দিনমজুর

উল্লেখ্য,মাদারীপুরের সদ্য যোগদানকারী পুলিশ সুপার হজে যাওয়ার আগে জেলা পুলিশের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়ে গেছেন। সেখানে তিনি পুলিশি কার্য উদ্ধারে কাউকে কোনো অর্থ প্রদান করে প্রতারিত না হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। যেমন পাসপোর্ট ভেরিফিকেশন, চাকরির ভেরিফিকেশন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের ভেরিফিকেশন, অস্ত্রের লাইসেন্সের ভেরিফিকেশন, পুলিশ ক্লিয়াররেন্সসহ যে কোনো ধরনের কাজে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ও প্রতারণার শিকার না হন সে ব্যাপারে যোগদানের পর থেকেই তিনি সজাগ ও সচেষ্ট রয়েছেন। ডিএমপি উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাহবুব হাসান গত ২২ জুলাই মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ইত্তেফাক/নূহু