কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড। তবে ম্যাচের প্রথম গোলটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে নরওয়ে। তাদের দাবি, মিয়ামিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে গোলের বিল্ডআপের আগে বল স্পাইডারক্যামের ঝুলন্ত তারে লেগেছিল। সে ক্ষেত্রে খেলা থামানোর নিয়ম থাকলেও রেফারি খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে রেফারি কেন খেলা বন্ধ করেননি, সে বিষয়ে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ফিফা। বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি বলেছে, ইংল্যান্ডের সমতাসূচক ওই গোলের আগে বল মাঠের ওপরের ঝুলন্ত তারে লাগার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি ঘটে ইংল্যান্ড-নরওয়ের মধ্যকার কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথমার্ধের শেষ দিকে। নরওয়ের গোলকিপার ওরইয়ান নিলান্ডের নেওয়া লম্বা কিক মাঝমাঠে যাওয়ার সময় সেটি স্পাইডারক্যামেরার তারে লেগেছে বলে দাবি করে নরওয়ে। সেখান থেকেই ইংল্যান্ডের আক্রমণের সূচনা হয়। বলের দখল নিয়ে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম।
Before England’s goal in minute 45+2 against Norway, the sensor in the Connected Ball showed no peak in the 'heartbeat of the ball' when in the air, and therefore no evidence that the ball touched the overhead wire and changed the movement of the ball. pic.twitter.com/gYf9ukfveT
— FIFA Media (@fifamedia) July 11, 2026
ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বল তারে লাগার বিষয়টি রেফারির নজরে এলে খেলা থামিয়ে দেওয়ার কথা।
ইংল্যান্ডের গোলটি হওয়ার পর নরওয়ে গোলকিপারকে রেফারির কাছে গিয়ে ওপরের দিকে ইশারা করে বল তারে লাগার বিষয়টি জানাতে দেখা যায়। ডাগআউটে থাকা নরওয়ে কোচ স্টেল সোলবাকেনও সহকারী রেফারির সঙ্গে কথা বলেন। তবে রেফারিদের কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি।
এছাড়া ভিএআর ঘটনা পর্যালোচনা করেছেন কি না, সেটাও স্পষ্ট নয়। তবে ওই সময়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে অনেকেই বলটি তারে লেগেছিল বলে দাবি করেন।
তবে অতিরিক্ত সময়ের শেষ দিকে ফিফা এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, বলটি ক্যামেরার তারে লেগেছিল বলে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফিফার বিবৃতিতে বলা হয়, ইংল্যান্ডের গোলের আগে বাতাসে থাকা অবস্থায় বলের ভেতরের সেন্সরে (কানেক্টেড বল টেকনোলজি) অস্বাভাবিক কোনো কম্পন বা ‘হার্টবিট’ ধরা পড়েনি। তাই বলটি ওপরের তারে লেগেছিল বা এর গতিপথ পরিবর্তন হয়েছিল-এমন কোনো প্রমাণ নেই।
এর আগে এবারের বিশ্বকাপেই বলের সেন্সর ব্যবহার করে ক্রোয়েশিয়ার একটি গোল বাতিল করা হয়েছিল। পর্তুগালের বিপক্ষে সেই ম্যাচে বল এক ক্রোয়েট খেলোয়াড়ের পায়ে লাগার প্রমাণ পেয়ে অফসাইডের নিয়মে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোলটি বাতিল করা হয়।