রংপুরের পীরগাছায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কাটার বিষয়ে প্রতিবাদ করায় এক সহকারী শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাকে শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টারও অভিযোগ করা হয়েছে।
রোববার(১২ জুলাই) এ ঘটনায় প্রতিবেশী আজাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে পীরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক।
অভিযোগকারী কুদরত আলী উপজেলার নেকমামুদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের গোপাল গ্রামের বাসিন্দা।
লিখিত অভিযোগে কুদরত আলী উল্লেখ করেন, আমার বাড়ি সংলগ্ন গোপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গত কয়েকদিন থেকে বিদ্যালয়ের চারপাশের গাছের ডালপালা কাটতে থাকেন আজাদুল ইসলাম। বিষয়টি তিনি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মুক্তি বেগমকে অবহিত করেন।
পরে গতকাল দুপুরে প্রধান শিক্ষিকার কক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, আলোচনা চলাকালে আজাদুল ইসলাম বিদ্যালয়ের বারান্দায় ডেকে নেন কুদরত আলীকে। সেখানে গেলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এর প্রতিবাদ করলে শার্টের কলার ধরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। একপর্যায়ে দুই হাত দিয়ে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তার শার্টের বুক পকেটে থাকা নগদ ৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মুক্তি বেগম, সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান, স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফাসহ অন্যরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে আহত অবস্থায় তাকে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষক কুদরত আলী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের গাছের ডাল কাটার বিষয়ে অভিযোগ করায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাকে মারধরের পাশাপাশি হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এবং পকেটে থাকা ৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।’
তবে অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আজাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম মালিক বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।