ইউরোপিয়ান ফুটবলের খোঁজখবর রাখা কিংবা নিয়মিত খেলা না দেখা সাধারণ দর্শকদের কাছেও ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আরলিং হলান্ড অত্যন্ত সুপরিচিত একটি নাম। তবে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে তাঁর অতিমানবীয় পারফরম্যান্স ও শরীরী ভাষা তাঁকে এনে দিয়েছে এক ভিন্নমাত্রার বৈশ্বিক পরিচিতি।
মাঠে বড় বড় পা ফেলে লম্বা সোনালী চুল বাতাসে উড়িয়ে যখন হলান্ড দৌড়ান, তখন সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ভাইরাল হয়। এবারের বিশ্বকাপে ৭টি চোখধাঁধানো গোল এবং একটি অ্যাসিস্টের অসামান্য ফর্ম দিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে পাকাপোক্ত জায়গা করে নিয়েছেন তিনি।
হলান্ডের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তার ঢেউ এবার আছড়ে পড়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ পেরুতে। দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ফুটবল ক্রেজ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, নরওয়েজিয়ান এই তারকার নামে নবজাতক শিশুদের নামকরণের ধুম লেগেছে। সংবাদ সংস্থা 'অ্যান্দিনা'র বরাত দিয়ে পেরুভিয়ান সংবাদমাধ্যম ‘পেরু ২১’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দেশটির জাতীয় পরিচয় ও নাগরিক নিবন্ধন সংস্থা রেনিয়েকের তথ্যানুযায়ী, ৪৬৮ জন নবজাতকের নাম নিবন্ধিত হয়েছে ‘হলান্ড’ নামে, আর ৯১ জন শিশুর পুরো নাম রাখা হয়েছে ‘আরলিং হলান্ড’। বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পরের কয়েক সপ্তাহে এসব নিবন্ধনের বেশিরভাগই হয়েছে। ব্রাজিলকে হারিয়ে নরওয়ে প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার পর এই সংখ্যা আরও বেড়ে যায়।
রেনিয়েকের মুখপাত্র ইভান তোরেস অ্যান্দিনাকে বলেন, ‘বিশ্বের বড় ফুটবল তারকারা পেরুর মানুষকে অনুপ্রাণিত করেন, যাতে তারা নিজেদের সন্তানদের আকর্ষণীয় ও বিখ্যাত নাম দেন। মানুষকে এই ধরনের নাম ব্যবহার করতে আমরা নিষেধ করি না।’
পেরুতে ফুটবল তারকাদের নামে নামকরণের ঘটনা নতুন নয়। রেনিয়েকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ৩ হাজার ৪০২ জনের নাম ‘মেসি’, যার মধ্যে ২৯২ জনের পুরো নাম ‘লিওনেল মেসি’। এক হাজার ১৮৫ জনের নাম ‘ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো’, এক হাজার ২৪১ জনের নাম ‘ইয়ামাল’, ২৩৮ জনের নাম ‘এমবাপ্পে’ ও ৩৩ হাজার ৮০৯ জনের নাম ‘নেইমার’।
মাঠের ফুটবলে আরলিং হলান্ডের গোলবন্যা ও নরওয়ের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ যাত্রা যে পেরুর সাধারণ মানুষের মন জয় করে নিয়েছে, এই নতুন পরিসংখ্যান তারই এক অনন্য প্রমাণ।