চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় সাবেক নারী ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজমুন নাহার স্বপ্নার (৩৫) রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে উপজেলার দোয়াভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকার ‘নিউ লাইফ হাসপাতাল’ ভবনের পঞ্চম তলার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে শাহরাস্তি মডেল থানা পুলিশ।
নিহত নাজমুন নাহার স্বপ্না কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার লালচাঁদপুর ইউনিয়নের বাংলাইস গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি ২০২৪ সালের শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ‘কলসি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাজমুন নাহার পেশায় একজন বিউটিশিয়ান ছিলেন এবং খিলা বাজার এলাকায় একটি বিউটি পার্লার পরিচালনা করতেন। প্রায় চার দিন আগে রাসেল চৌধুরী রাজু নামে এক প্রবাসী, নিজেকে তার স্বামী পরিচয় দিয়ে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন। সোমবার সকালে বাসা থেকে শিশুদের কান্নার শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে গিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে নাজমুন নাহারের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বপ্নার তিনটি বিয়ে হয়েছিল। প্রথম স্বামী ওমর ফারুকের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলার নাহারা গ্রামে। সেখানে বসবাসকালে তিনি একটি লেডিস টেইলারিং প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। ওই সংসারে তার একটি ছেলে ও একটি মেয়ে রয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। এরপর তিনি শাহরাস্তি উপজেলার রায়শ্রী দক্ষিণ ইউনিয়নের বেরকী গ্রামের মো. শাহাদাত হোসেনকে বিয়ে করেন। পরে সেই সম্পর্কেরও বিচ্ছেদ ঘটে। সর্বশেষ একই ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের প্রবাসী রাসেল চৌধুরী রাজুর সঙ্গে তার বৈবাহিক সম্পর্ক ছিল বলে পারিবারিক সূত্র জানায়।
ভবনের মালিক মেহেদী হাসান জানান, স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে তারা (রাজু ও স্বপ্না) বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই এমন ঘটনার কারণে ভবনের অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শমশেদ হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেন এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।
এসআই শমশেদ হোসেন জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।