‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই পুরোদমে তেল রপ্তানি করছে ইরান’

জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ষাট দিনের বিশেষ ছাড়পত্র গত সপ্তাহে বাতিল হওয়া সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং পূর্বের নিয়মেই সচল রয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ। 

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পর তেহরানের জ্বালানি রপ্তানি খাতে কোনো ধরনের বিপর্যয় বা সমস্যার সৃষ্টি হবে না বলে তিনি আন্তর্জাতিক মহলকে আশ্বস্ত করেছেন।

নিজের অফিশিয়াল টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে জ্বালানি মন্ত্রী মহসেন পাকনেজাদ বলেন যে যুক্তরাষ্ট্রের এই বৈরী আচরণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ক্ষতিকর প্রভাবগুলো সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় করতে ইরানের তেল মন্ত্রণালয় দীর্ঘ বছর ধরে একটি শক্তিশালী ও বিশেষ অভ্যন্তরীণ কৌশলগত কাঠামো বজায় রেখেছে। 

ফলে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে হঠাৎ করে এই ছাড়পত্র বা অনুমতিপত্র বাতিল করে দেওয়ার পরও দেশের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব কিংবা নতুন কোনো সংকটের সৃষ্টি হয়নি।

মার্কিন প্রশাসনের এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে ইরানি মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে ‘আমেরিকানরা স্বভাবসুলভভাবেই তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং ষাট দিনের ছাড় সংক্রান্ত দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারকের দশ নম্বর ধারাটি সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করেছে’। 

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে তেল রপ্তানি নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য আগে থেকে যেসব প্রয়োজনীয় বিকল্প ও বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, সেগুলো অত্যন্ত শক্তভাবে ধরে রাখা হয়েছে এবং এই কারণে দেশের তেল বিক্রির পুরো প্রক্রিয়াটি অতীতের মতোই সফলভাবে সামনে এগিয়ে চলছে।

বিগত সপ্তাহে হরমুজ প্রণালীতে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে তীব্র সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

এই ঘটনার সরাসরি জের ধরে আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ বা অর্থ মন্ত্রণালয় জরুরি ভিত্তিতে ইরানের তেল বিক্রির জন্য দেওয়া বিশেষ আইনি অনুমোদন ও ছাড়পত্রটি পুরোপুরি বাতিল ঘোষণা করে। তবে মার্কিন সরকারের এই বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির প্রয়াস তেহরানের মজবুত রপ্তানি কৌশলের কারণে মাঠপর্যায়ে সফল হতে পারছে না বলে ইরানি প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হলো।

সূত্র: আল জাজিরা