ইসলাম সুন্দর জীবনব্যবস্থা ও শান্তির ধর্ম। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন ও সামাজিক বন্ধন বজায় রাখার নীতি ইসলামের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। পবিত্র কোরআন ও হাদিসের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, ইসলাম ব্যক্তিচরিত্রে যেসব গুণাবলীর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে, তা হলো আখলাক বা চারিত্রিক আদর্শ। ইহলৌকিক ও পারলৌকিক জীবনের উত্কর্ষের জন্য নৈতিক আদর্শবোধই হলো যে কোনো নির্মল চরিত্রের মূল উত্স। কোনো সমাজ বা জাতি যতক্ষণ পর্যন্ত এই নৈতিক আদর্শের ভিত্তিতে নিজেদের সামাজিক সম্পর্ক বজায় রেখে চলবে, তারা কখনো ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে না। সামাজিক জীবনে আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের ব্যাপারে হজরত রাসূলে পাক (স) বলেছেন, মানুষের সঙ্গে সত্ স্বভাব ও আচরণ দ্বারা কথাবার্তা ও আলাপ করো। তিনি আরো বলেছেন, আল্লাহপাক আমাকে মানুষের সত্ স্বভাব, প্রকৃতি এবং আচরণের সৌন্দর্যরাশিকে পরিপূর্ণ করার উদ্দেশে পাঠিয়েছেন। সমাজে শান্তি ও সুশৃঙ্খল বজায় রাখতে হলে আচার-ব্যবহারে ভদ্রতা, নম্রতা, শিষ্টতা এবং নমনীয়তা দেখানো অপরিহার্য। আর এসবের মধ্যে নিহিত রয়েছে সামাজিক সৌজন্যবোধের পরিচয়। পবিত্র কোরআনে এ সম্পর্কে আরো বলা হয়েছে, মুমিনগণ! কেউ যেন অন্য শ্রেণির প্রতি উপহাস না করে। হতে পারে সেই শ্রেণির লোক তোমার অপেক্ষা উত্তম এবং এক শ্রেণির স্ত্রীলোক যেন অন্য শ্রেণির স্ত্রীলোকের প্রতি অবজ্ঞাসূচক ব্যবহার না করে। এও হতে পারে, তাদের চেয়ে তারা উত্তম। কারো মান-ইজ্জত খেয়ানত করো না। কিংবা তাচ্ছিল্য করে অবজ্ঞাজনকভাবে কারো নাম ধরে ডেকো না। (সুরা হুজরাত, ১১)
ইসলামে সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভ্রাতৃত্ববোধের ভূমিকা অনস্বীকার্য। কেননা প্রত্যেক মুসলিম তাই পরস্পর ভাইভাই। মানবিক মূল্যবোধে একে অপরের জন্য সমানভাবে সহমর্মিতায় আবদ্ধ। ইসলাম তাই সুস্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছে, তুমি যা খাবে বা পরবে, তোমার প্রতিবেশীকে তা-ই দেবে। সামাজিক সুসম্পর্ক গড়া ও বজায় রাখার ক্ষেত্রে এ নির্দেশ আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে। সমাজে একত্রে মিলেমিশে থাকার ওপর আমাদের নবি করিম (স) আরো গুরুত্ব আরোপ করে বলেছেন, যে ব্যক্তি রিজিক ও হায়াত বৃদ্ধি পছন্দ করে, তার পক্ষে উচিত, সে যেন তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে। তিনি আরো বলেছেন, যার হাত ও জিহবা থেকে আল্লাহর সৃষ্ট জীবসমূহ নিরাপদ থাকে, সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলমান। তাই আমাদের সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখতে গিয়ে অবশ্যই সদাচর, নরম ব্যবহার, সম্মান প্রদর্শন, পরনিন্দা পরিহার, সালাম-মোছাফাহা, সেবা ও সত্ পরামর্শ এবং পারস্পরিক সাহায্য-সহযোগিতা, মহানুভবতা ইত্যাদি সত্ গুণের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে।
lলেখক :সভাপতি, বাংলাদেশ সীরাত মিশন, ঢাকা