পাহাড় ধস-বন্যায় রাঙ্গামাটিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলজিইডির ৭০ কিলোমিটার সড়ক

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টি, পাহাড় ধস, বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের কারণে রাঙ্গামাটি জেলার প্রায় ৭০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সব সড়কই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্মিত। এসব সড়ক জরুরি ভিত্তিতে মেরামতে প্রায় ২ কোটি টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে এলজিইডি।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১০টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাউখালী উপজেলা। উপজেলার চারটি ইউনিয়নে প্রায় ২৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙ্গামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় জানায়, টানা বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বাঘাইছড়ি উপজেলার কিছু এলাকায় এখনো পানি পুরোপুরি না নামায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।

এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, বাঘাইছড়িতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার, লংগদুতে ১০ কিলোমিটার, কাপ্তাইয়ে ১০ কিলোমিটার এবং রাজস্থলীতে ১০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে সড়কের অংশবিশেষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক মূল্যায়নে আরও জানা গেছে, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে দুটি কালভার্টও ধসে গেছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রকৌশলীরা।

এলজিইডির কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ কিলোমিটার সড়কের জরুরি মেরামতে প্রায় ২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। তবে স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার করতে ব্যয় হতে পারে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা।

কাউখালী উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলীম বলেন, উপজেলার সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করা না হলে পরবর্তী ভারী বৃষ্টি ও পাহাড় ধসে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে।

রাঙ্গামাটি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহামদ শফি বলেন, টানা বৃষ্টি, পাহাড় ধস ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রয়েছে। তবে পানি পুরোপুরি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারকাজ শুরু করা হবে।