২৫ বছর আগের আইন বাতিল, সংসদে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল’ পাস

জাতীয় সংসদে বগুড়ায় একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল, ২০২৬’ পাস হয়েছে। এর মাধ্যমে পূর্ববর্তী ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ বাতিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন বিলটি উত্থাপন করেন। আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশসহ বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।

নতুন আইনের আওতায় বগুড়া জেলায় ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান, জীবন বিজ্ঞান (লাইফ সায়েন্স), প্রকৌশল, প্রযুক্তি, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন, কৃষি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা, গবেষণা এবং জ্ঞান সৃষ্টি ও বিস্তারের সুযোগ থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আধুনিক প্রযুক্তি, পেশাগত দক্ষতা, গবেষণা ও অর্থনৈতিক চাহিদার ওপর জোর দিয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামসহ এমফিল, পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণার সুযোগ রাখা হবে। পাশাপাশি শিল্প, বাণিজ্য, সমাজ ও অর্থনীতির সাথে সংগতিপূর্ণ স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কোর্স পরিচালনা করা হবে, যেখানে অন ক্যাম্পাস শিক্ষার পাশাপাশি অনলাইন দূরশিক্ষণ (ডিস্ট্যান্স লার্নিং) ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

এর আগে, গত ৭ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রী বিলটি সংসদে উত্থাপন করলে তা অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছিল।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০০১ সালের ১৫ জুলাই ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১’ সরকারি গেজেটে প্রকাশিত হলেও তা কখনো বাস্তবায়ন করা হয়নি। বর্তমানে একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক প্রস্তুতি চলায় সরকার আগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরিকল্পনার পরিবর্তে এই পূর্ণাঙ্গ সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। বগুড়া অঞ্চলে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, গবেষণা জোরদার, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এই বিলটি প্রণয়ন করা হয়েছে।