চলমান বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২ থেকে বিদায় নিয়েছে সেনেগাল। ব্যর্থ বিশ্বকাপ অভিযান শেষে সেনেগাল দল দেশে ফেরার পর চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ময়নাতদন্ত চলছে। এরই মধ্যে প্রধান কোচ পাপে থিয়াওসহ পুরো কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ)।
এবার সেনেগাল দলের দীর্ঘ দিনের চিকিৎসককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এফএসএফ সভাপতি আব্দুলায়ে ফল দাবি করেছেন, প্রায় ১০ বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করা ডাক্তার আব্দেরহমানে ফেদিওর মূলত একজন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ; ক্রীড়া চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ নন।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুলায়ে ফল বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি জানতে পেরেছি যে, জাতীয় দলের চিকিৎসক একজন গাইনোকোলজিস্ট। আমি আগে এটি জানতাম না।’
তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি জানার পর খেলোয়াড়দের চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। ফল বলেন, ‘কয়েকজন খেলোয়াড় চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে আস্থাহীনতায় ভুগছিল। এ কারণেই বিশ্বকাপের সময় অতিরিক্ত স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে হয়।’
তবে ফুটবল ফেডারেশন সভাপতির এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছে সেনেগালিজ অ্যাসোসিয়েশন অব স্পোর্টস মেডিসিন। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর শুধু স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নন; তার ক্রীড়া চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ক্রীড়া জীববিজ্ঞানে বিশেষ ডিপ্লোমা রয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু চিকিৎসক তাদের মূল বিশেষায়নের পাশাপাশি স্পোর্টস মেডিসিনে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় দলের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন।
বিবৃতিতে ফুটবল ফেডারেশন সভাপতির মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্নকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
২০১৭ সালের শুরুর দিক থেকে সেনেগাল জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছেন ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর। এই সময়ে তিনি তিনটি ফিফা বিশ্বকাপ ও পাঁচটি আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে দলের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।