ইউক্রেনের জন্য জার্মানি ৫০ হাজার আক্রমণাত্মক ড্রোনের অর্থায়ন করছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। কোনো পশ্চিমা সরকারের পক্ষ থেকে কিয়েভের জন্য ড্রোন কেনার ক্ষেত্রে এটি এ যাবৎকালের অন্যতম বড় অর্থায়ন।
জানা গেছে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেন চালকবিহীন ড্রোনের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী প্রতিদিন হাজার হাজার ড্রোন হামলা চালাচ্ছে এবং দেশটিতে বর্তমানে বছরে লাখ লাখ ড্রোন তৈরি হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইউক্রেনের শীর্ষ ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'স্কাইফল'- এর তৈরি ‘শ্রাইক' ফার্স্ট-পারসন-ভিউ (এফপিভি) ড্রোন সরবরাহ করা হবে। ড্রোনগুলোতে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'অটেরিয়ন’-এর সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে, যা ওড়ার শেষ মুহূর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যে কোনো চলন্ত লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে নিখুঁত আঘাত হানতে সক্ষম অটেরিয়নের প্রধান নির্বাহী লরেঞ্জ মেয়ার এই চুক্তির আকার নিশ্চিত করে জানান, এর মূল্য প্রায় ৯ কোটি ইউরো (১০ কোটি ৩০ লাখ ডলার) এবং একটি ইউরোপীয় দেশ এতে অর্থায়ন করছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে কিছু ড্রোন ইউক্রেন সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং বাকিগুলো চলতি বছরের মধ্যেই পাঠানো হবে।
অন্যদিকে, স্কাইফল এই চুক্তিতে জার্মানির জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অভিযানের নিরাপত্তার স্বার্থে জার্মানি ও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। কম খরচে তৈরি এই শ্রাইক ড্রোন ২০২৩ সাল থেকেই ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে সম্প্রতি এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ নজর কেড়েছে। স্কাইফল ও ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান স্কাইকাটারের যৌথ উদ্যোগে তৈরি শ্রাইক ১০-এফ’ নামের একটি সংস্করণ সম্প্রতি পেন্টাগনের একটি প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে শীর্ষস্থান দখল করেছে। লাখ লাখ একমুখী অ্যাটাক ড্রোন কেনার লক্ষ্যে পেন্টাগনের ১১০ কোটি ডলারের একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। অটেরিয়ন জানিয়েছে, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বেশ কয়েকটি ড্রোনেই তাদের সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।
মেয়ার বলেন, বিভিন্ন হার্ডওয়্যার নির্মাতাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বে এবং বেশ কয়েকটি পশ্চিমা সরকারের অর্থায়নে অটেরিয়ন চলতি বছর ইউক্রেনকে মোট ১ লাখ ড্রোন সরবরাহে সহায়তা করছে। এর মধ্যে পেন্টাগনের ৫ কোটি ডলারের একটি চুক্তিও রয়েছে, যার আওতায় ৩৩ হাজার ড্রোন ইতিমধ্যে ইউক্রেনে সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া, গত মাসে যুক্তরাজ্য ঘোষণা দিয়েছিল, তারা কিয়েভকে চলতি বছর ১ লাখ ৫০ হাজার ড্রোন সরবরাহ করবে, যা তাদের ৭৫ কোটি ২০ লাখ পাউন্ডের (১০১ কোটি ডলার) একটি বৃহৎ সহায়তা প্যাকেজের অংশ।
এদিকে গত কয়েক দিনে রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ৪১৯টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। সাম্প্রতিক রাশিয়ার ভেতরে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে কিয়েভ। বিশেষ করে, জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। যুদ্ধ পরিচালনায় অর্থায়নের জন্য ক্রেমলিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হিসেবে বিবেচিত এ খাতকে দুর্বল করাই এ হামলার লক্ষ্য। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ম্যাক্স প্ল্যাটফরমে দেওয়া এক পোস্টে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, দেশ জুড়ে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ইউক্রেনের ৪১৯টি ফিক্সড-উইং মানববিহীন আকাশযান (ড্রোন) প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। তবে এ ঘটনায় কেউ নিহত বা আহত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় কোনো তথ্য দেয়নি। এর আগে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, গত রাতে বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী রাজধানীমুখী ৫০টি ‘শত্রু ড্রোন' ভূপাতিত করে। এর কয়েক দিন আগে ইউক্রেনের ৬৬০টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করে রাশিয়া। এ ছাড়া গত সপ্তাহে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায়।