কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরী ও কুতুবদিয়ায় বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গেই দৃশ্যমান ধ্বংসযজ্ঞ ও ক্ষতচিহ্ন। সড়ক, সেতু ও বেড়িবাঁধ ভেঙে যোগাযোগব্যবস্থা বর্তমানে সম্পূর্ণ লন্ডভন্ড ।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এবারের বন্যায় পাহাড়ধস, পানিতে ডুবে, সাপের কামড়ে এবং কুতুবদিয়ায় ট্রলারডুবির ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এছাড়া কুতুবদিয়ায় এখনো একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ঢলের তোড়ে চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলার প্রায় ৮৫ কিলোমিটার পাকা ও কাঁচা সড়ক সম্পূর্ণ বা আংশিক ভেঙে গেছে। ধসে পড়েছে অন্তত ১৪টি সেতু ও কালভার্ট। কুতুবদিয়া উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ৪৩ মিটার দীর্ঘ শাহজির পাড়া সেতুটি পানির তোড়ে সম্পূর্ণ ধসে গেছে। একই সঙ্গে মাতামুহুরী নদীর তীব্র স্রোতে চকরিয়া ও পেকুয়ার প্রায় ১৮ কিলোমিটার বেড়ি বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে ফাটল দেখা দিয়েছে। কুতুবদিয়ায়ও বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে স্থানীয় অর্থনীতি, কৃষি ও মৎস্য খাতে । উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে চকরিয়া, পেকুয়া ও কুতুবদিয়ার প্রায় ৭ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি এলাকার চিংড়ি ঘের ও মাছের পুকুর ভেসে গেছে । ফলে মাছ চাষিরা এখন সম্পূর্ণ নিঃস্ব। একই সঙ্গে তলিয়ে ও পচে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২০০ হেক্টর আমন ধানের বীজতলা ও আউশ খেত । সেই সঙ্গে নষ্ট হয়েছে শত শত হেক্টর জমির শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকদের অভিযোগ, মাতামুহুরী নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া এবং টেকসই বেড়ি বাঁধ না থাকায় প্রতিবছরই তাদের এই নিয়তি বরণ করতে হয় । অবিলম্বে নদী খনন করা এবং সিসি ব্লক বসিয়ে স্থায়ী ও মজবুত বেড়ি বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে বন্যাপরবর্তী এলাকাগুলোতে পানীয়জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। হাজার হাজার টিউবওয়েল বন্যার পানিতে ডুবে থাকায় মানুষ খাবার পানি পাচ্ছে না, যার ফলে ডায়রিয়া, চর্মসেহ পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার জানান, পানি নামার সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর সুনির্দিষ্ট তালিকা করে দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জরুরি ত্রাণ ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।