আট বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে গিয়েও ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হলো না ইংল্যান্ডের। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার সেই দুঃসহ স্মৃতিই যেন আবার ফিরে এলো আটলান্টায়। এবার প্রতিপক্ষ ছিল ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।
জানা যায়, আটলান্টায় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের জয় যখন সময়ের ব্যাপার ছিল, তখন ম্যাচ ছিনিয়ে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। ৮২ মিনিটে রিস জেমসের বদলি হিসেবে যখন ড্যান বার্নকে নামানো হয়, তখন ইংল্যান্ডের ভক্ত-সমর্থকেরা উল্লাস করেছেন। ইংলিশরা যে তখনো ১-০ গোলে এগিয়ে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। লিওনেল মেসির জাদুতে পুরো ইংল্যান্ড লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। গোল করে নয়, এনসো ফের্নান্দেস ও লাউতারো মার্তিনেসকে দিয়ে গোল করিয়েছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলেই আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। বার্নের মতে শুরুতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ইংল্যান্ড এগোলেও শেষ মুহূর্তে সবকিছু ওলটপালট হয়ে যায়। হারের পর নিজেদের পারফরম্যান্সের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার বলেন, ‘আমরা আমাদের ম্যাচ পরিকল্পনা বেশ ভালোভাবেই বাস্তবায়ন করেছিলাম। ১-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর... তারপর আমরা খুব রক্ষণাত্মক ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ি। আমরা প্রতিপক্ষকে অনেক বেশি ক্রস করার সুযোগ দিয়েছি। যখন আপনি এত উচ্চমানের একটি দলের বিপক্ষে খেলবেন, তখন এর মূল্য দিতেই হবে।’
ম্যাচশেষে বার্ন বলেন, ‘সত্যিই ভীষণ ভেঙে পড়েছি। এ ম্যাচের স্মৃতি আমাদের অনেক দিন তাড়িয়ে বেড়াবে।’
হোল্ডারদের (আর্জেন্টিনা) বিরুদ্ধে আগের ম্যাচের সেই ধার ধরে রাখতে না পারার কারণ জানতে চাওয়া হলে বার্ন বলেন, "আমি জানি না। ১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার এত কাছাকাছি চলে আসলে স্নায়ুচাপ তৈরি হওয়াটা মানবসুলভ স্বাভাবিক বিষয়। আর্জেন্টিনার এই পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা ও আত্মবিশ্বাস দুটোই ছিল। গত কয়েকটি ম্যাচে আমরা বক্সের ভেতর খুব ভালো রক্ষণভাগ বজায় রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম এবারও তা পারব, কিন্তু বক্সে আমরা যতটা আঁটসাঁট থাকা উচিত ছিল, ততটা থাকতে পারিনি।"
তবে হারের পরেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে গর্বিত বার্ন। তিনি বলেন, এই বিশ্বকাপে আমরা যা করেছি তার জন্য আমি এখনও খুব গর্বিত। আমার মনে হয় না টুর্নামেন্ট শুরুর আগে কেউ আমাদের নিয়ে এতটা আশা করেছিল। আমরা অনেক ভালো ফুটবল খেলেছি, এবং সত্যি বলতে আমি ভেবেছিলাম এবার আমরা ইতিহাস গড়তে পারব।
ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন ভাঙলেও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রা এখনই শেষ হচ্ছে না। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের মুখোমুখি হবে থ্রি লায়ন্সরা।