যুক্তরাষ্ট্রের ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন এবং ভোট গণনার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাগুলো সহজে হ্যাক বা সাইবার হামলার শিকার হতে পারে বলে নতুন করে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ দিন ধরে কাগজের ব্যালটে ভোট গ্রহণের পক্ষে অবস্থান নেওয়া ট্রাম্প দেশের বর্তমান নির্বাচনী পদ্ধতিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) ট্রাম্প দেশের ভোট গ্রহণ প্রযুক্তির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে সরাসরি বলেছেন যে ‘আমাদের সরকার দীর্ঘ দিন ধরেই এটি ভালো করে জানে যে এই মেশিনগুলো শত্রুপক্ষের সাইবার আক্রমণের সামনে অত্যন্ত অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে’। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক নির্বাচনী কাঠামো বর্তমানে চরম নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে।
নিজের এই দাবিকে জোরালো করতে ট্রাম্প একটি কথিত গোয়েন্দা মূল্যায়নের তথ্য উদ্ধৃত করেছেন। ওই গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে ‘আমরা এমন ধারণা করছি যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলো, যার মধ্যে নূন্যতম রাশিয়া, চীন, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অরাষ্ট্রীয় গোষ্ঠীও রয়েছে, তাদের সবারই আমেরিকার নির্বাচনী অবকাঠামো ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়ার বা ক্ষতিগ্রস্ত করার পূর্ণ কারিগরি সক্ষমতা রয়েছে’।
এই উদ্বেগের পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশের এই ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে মেরামত ও সুরক্ষিত করার সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তার প্রশাসন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে নিশ্ছিদ্র ও নিরাপদ করতে আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য এবং স্থানীয় শাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
সার্বিক সংস্কার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন যে ‘আমরা ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজ্যের গভর্নর, সিনেটর এবং কংগ্রেসের সদস্যদের নিজ নিজ এলাকার নির্বাচনী ব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটি ও ঝুঁকির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছি’।
তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন যে যদি কেউ আজ যুক্তরাষ্ট্রের ভোট গ্রহণ ব্যবস্থার দিকে তাকায়, তবে দেখতে পাবে এটি অনেকগুলো রাজ্যে অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় রয়েছে এবং তারা এটি পুরোপুরি ঠিক করার জন্য কাজ করছেন।
সূত্র: আল জাজিরা