বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির সামনে ১১টি ঐতিহাসিক রেকর্ডের হাতছানি

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামছে আর্জেন্টিনা। তবে এই ম্যাচ লিওনেল মেসির জন্য শুধু আরেকটি ফাইনাল নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসে একাধিক নতুন রেকর্ড গড়ার সুযোগও। শিরোপা নির্ধারণী এই ম্যাচে নামলেই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের সামনে থাকবে অন্তত ১১টি অনন্য কীর্তি স্পর্শ করার সম্ভাবনা।

৩৯ বছর ২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলতে নামবেন মেসি। গোলরক্ষকদের বাদ দিলে তিনিই হবেন বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড ফুটবলার। সব মিলিয়ে সবচেয়ে বেশি বয়সে ফাইনাল খেলার রেকর্ডটি এখনো ইতালির কিংবদন্তি গোলরক্ষক দিনো জফের দখলে।

এটি হবে মেসির তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনাল। এর মাধ্যমে আর্জেন্টিনার ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি ফাইনালে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কীর্তি গড়বেন তিনি। এর আগে ডিয়েগো ম্যারাডোনা দুবার বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। সব দেশের হিসেবে মেসির আগে কেবল ব্রাজিলের কাফু তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে অধিনায়ক হিসেবে খেলেছেন।

Messi

স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিততে পারলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে দুইবার ট্রফি জয়ের রেকর্ড গড়বেন মেসি। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনা হবে ব্রাজিল ও ইতালির পর টানা দুটি বিশ্বকাপ জেতা তৃতীয় দেশ। সেই সঙ্গে সবচেয়ে বেশি বয়সে টানা দুই বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলার হওয়ার কীর্তিও গড়বেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

ব্যক্তিগত গোলের রেকর্ডও হাতছানি দিচ্ছে মেসিকে। ফাইনালে একটি গোল করতে পারলে বিশ্বকাপ ফাইনালে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা ফুটবলার হবেন তিনি। বর্তমানে এই রেকর্ড সুইডেনের নিলস লিডহোমের দখলে।

একই সঙ্গে একটি গোল করলেই ১৯৩০ বিশ্বকাপে গিয়ের্মো স্তাবিলের গড়া এক আসরে আর্জেন্টিনার হয়ে সর্বোচ্চ আট গোলের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়বেন মেসি।

ফাইনালে দুটি গোল করতে পারলে এক বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা দাঁড়াবে ১০-এ। এর মাধ্যমে ইউরোপের বাইরের প্রথম ফুটবলার হিসেবে এক বিশ্বকাপে ১০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। এর আগে এই কীর্তি গড়েছেন শুধু জুস্ত ফঁতেন, সান্দর কচিস ও গার্ড মুলার।

Lionel Messi

২০২২ সালের ফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন মেসি। এবারও গোল করতে পারলে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের ষষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন ফাইনালে গোল করার কীর্তি গড়বেন।

আর যদি দুটি গোল করতে পারেন, তাহলে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ চার গোলের রেকর্ডে ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপের পাশে জায়গা করে নেবেন। হ্যাটট্রিক করতে পারলে সেই রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নেবেন।

এ ছাড়া ফাইনালে গোল করে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দিতে পারলে চ্যাম্পিয়ন দলের হয়ে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও ভাঙতে পারবেন মেসি। বর্তমানে ২০০২ বিশ্বকাপে ব্রাজিলের কিংবদন্তি রোনালদোর করা আট গোলই এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ।

সব মিলিয়ে স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনাল শুধু আরেকটি শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নয়, বরং লিওনেল মেসির জন্য ফুটবল ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে লেখার এক বিরল সুযোগ।