কলকাতা বিমানবন্দরের বাঁকড়া মসজিদে নামাজ বন্ধ, ১৬৩ ধারা জারি

ভারতের কলকাতা বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে সম্প্রসারণের জন্য রানওয়ের পাশে থাকা বাঁকড়া মসজিদে নামাজ বন্ধের প্রতিবাদে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের আজ পথে নামার ডাক দিয়েছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পশ্চিমবঙ্গ শাখার সভাপতি সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। যদিও মসজিদে জুমার নামাজ আদায়ের ঘোষণা দিয়েও মুসল্লিরাসহ মসজিদ কমিটির নেতারা সেখানে যেতে পারেননি।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল থেকেই সেই এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, তবে আজ সকাল থেকে সেখানে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা চাদরে মুড়ে ফেলেছে মসজিদে প্রবেশপথের সামনে বাঁকড়া এলাকা। অবাঞ্ছিত কাউকে জমায়েত করতে দেয়নি পুলিশ। ভারতীয় ন্যায় সংহীতার ১৬৩ ধারা (পূর্বের ১৪৪ ধারা) সেখানে কার্যকর করা হয়। এর ফলে পণ্ড হয়ে গেছে জমায়েত।   

আজ বাঁকড়া মসজিদে জুমার নামাজ আদায় এবং শান্তিপূর্ণ দোয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের জন্য বৃহস্পতিবার মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ভারতের বৃহত্তম মুসলিম সংগঠন জমিয়ত উলামায়ে হিন্দের রাজ্য সভাপতি সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ঘোষণা দিয়েছিলেন।

তবে আজ বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট এলাকায় পৌঁছে সিদ্দিকুল্লাহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী পরে তার সমর্থকদের নিয়ে কাছের আরেকটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন। এদিকে কলকাতার কয়েকটি এলাকায় কিছু মুসল্লিকে নামাজের সময় হাতে কালো কাপড় বেঁধে নীরব প্রতিবাদ জানাতেও দেখা গেছে।

আজ সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট ও আশপাশের এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। পুরো এলাকায় মোতায়েন করা হয় পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (র‍্যাফ) ও জলকামান। বিধাননগর পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে রেখেছে।

বিমানবন্দরসংলগ্ন বাঁকড়া মসজিদ সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কয়েক দিন আগে সেখানে যাতায়াত ও নামাজ আদায় বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছে মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

গতকাল কলকাতা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী ও মসজিদ কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, ১১ জুলাই থেকে মসজিদে যাওয়ার পথ ভেতর থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের ভাষ্য, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিমানবন্দরসংলগ্ন ওই মসজিদে আর নামাজ আদায় করা যাবে না।

১৩৬ বছরের পুরোনো এই মসজিদে নামাজ বন্ধের আগে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা করা হয়নি বলে দাবি করে মসজিদ কমিটি। এমনকি কোনো লিখিত নোটিশও দেওয়া হয়নি।

মসজিদ কমিটি জানায়, ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদে একসময় আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ নামাজ আদায় করতেন। অবিভক্ত ভারতের সময় বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেক মুসল্লি সেখানে নামাজ আদায়ের জন্য যেতেন।

মসজিদে নামাজ আদায়ের সুযোগ পুনর্বহাল এবং বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট খুলে দেওয়ার দাবিতে আজ সেখানে জমায়েতের চেষ্টা করেছিলেন সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নেতৃত্বে মসজিদ কমিটির সদস্যরা। তবে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও ১৬৩ ধারা জারির কারণে তাঁদের সেই কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

এ ঘটনায় উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ওই অঞ্চলটিতে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।