ব্রাজিলের পণ্যে নতুন ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের

ব্রাজিলের বিভিন্ন পণ্যের ওপর নতুন করে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সঙ্গে গরুর মাংস, কফি, বিরল খনিজ, জ্বালানি পণ্য, উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যকে শুল্কের বাইরে রাখা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বাণিজ্য কৌশলের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এ ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) দপ্তর। খবর রয়টার্সের। 

ইউএসটিআরের ঘোষণায় বলা হয়, আগামী ২২ জুলাই থেকে নতুন শুল্ক কার্যকর হবে। আসবাবপত্র, ইথানল, যন্ত্রপাতি, জুতা, চিনি, কৃষিযন্ত্র, পোশাক, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি, কাগজসহ হাজারো ব্রাজিলীয় পণ্য এ শুল্কের আওতায় আসবে।

তবে গরুর মাংস, কফি, বিরল খনিজ, জ্বালানি পণ্য, উড়োজাহাজ ও এর যন্ত্রাংশ, পিগ আয়রন, স্টিল স্ক্র্যাপ, অর্গানিক মধু এবং আনফ্লেভার্ড ইনস্ট্যান্ট কফিসহ কয়েকটি পণ্যকে শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন বাণিজ্য নীতির প্রথম বড় পদক্ষেপ। ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ডিজিটাল বাণিজ্য, অবৈধ বন উজাড় এবং কিছু বাণিজ্যিক নীতিতে ব্রাজিল অন্যায্য আচরণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, ‘গত এক বছরে ব্রাজিলের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হলেও তদন্তে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর সমাধান হয়নি। তবে আমরা আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।’

যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি জানান, ব্রাজিল ‘পারস্পরিকতা আইন’ প্রয়োগ এবং বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার আওতায় এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেন, লুলা সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনা করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘লুলা ব্রাজিলের জনগণের কল্যাণের চেয়ে নিজের অহংকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। এই শুল্ক তারই মূল্য।’

রুবিওর মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা। তিনি বলেন, এটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের প্রতি রূঢ় ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য। ব্রাজিল শুরু থেকেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করেছে।

ব্রাজিলের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন শুল্কে দেশটির যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ বা প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে কাঠ, যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র ও জুতা শিল্পে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি সেকশন ৩০১ তদন্ত আগামী ২৪ জুলাই শেষ হওয়ার কথা। সেই তদন্তের ভিত্তিতে আরও ১২ দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাজিলীয় পণ্যের ওপর মোট শুল্কের হার দাঁড়াবে ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ। 

সূত্র: রয়টার্স