৩ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাবার জানাজায় অংশ নিলেন স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা

নড়াইল সদর উপজেলায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পুলিশ পাহারায় বাবা টিপু মোল্যার (৫৮) জানাজায় অংশ নিয়েছেন ছেলে স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতা মো. জিসানুর রহমান জিসান (৩৩)।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ির পাশের একটি মাঠে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেন তিনি। এ সময় জিসানকে পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে জানাজায় উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।

পারিবারিক ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী তাকে আবার কারা হেফাজতে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

মো. জিসানুর রহমান জিসান সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ভাঙচুর ও মারধর মামলায় কারাগারে আছেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় নড়াইল শহর থেকে উপজেলার বাশঁগ্রাম ইউনিয়নের যদুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়ি ফিরছিলেন জিসানের পিতা টিপু মোল্যা। পথে সুম্ভডাঙ্গা গ্রামের নাজমুল কাজীর বাড়ির সামনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাস্তার পাশে পড়ে যান টিপু মোল্যা। পরে স্থানীয়রা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর, আইনি প্রক্রিয়ায় ছেলে জিসানকে কারাগার থেকে বেলা সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত, ৩ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি দেয় নড়াইল জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ। পরে সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় জিসানের বাবার নামাজে জানাজাসহ কর্মচন্দ্রপুর কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন শেষে আবারও কারাগারে পাঠানো হয় জিসানকে।

নড়াইল সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নড়াইল জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে পুলিশ পাহারায় শুক্রবার দুপুরে তার বাবার জানাজায় জিসানকে নিয়ে যাওয়া হয়। জানাজা ও দাফন শেষে তাকে আবার কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, নড়াইল সদর উপজেলার সদ্য সাবেক সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবু রায়হানের (৩৫) অফিসকক্ষে প্রবেশ করে ভাঙচুর, সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ কর্মকর্তাকে মারধরের অভিযোগ এনে গত (২৮ জুন) মো. জিসানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও চার থেকে পাঁচ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় কারাগারে রয়েছেন জিসান।