জামালপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এর আগে এদিন ভোর রাতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে ‘আল-সাদিক হৃদয়’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে ভিডিওটি প্রচার করা হয়। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি একটি জ্বলন্ত কাপড় স্মৃতি স্তম্ভের দিকে নিক্ষেপ করছেন। এরপর সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আল-সাদিক হৃদয় বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সমাজকর্ম বিভাগে লেখা পড়া শেষে প্রায় চার মাস আগে স্ত্রীসহ মালয়েশিয়া পাড়ি জমান সাদিক। পড়াশুনার সময় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগে (বর্তমানে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন) রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বাড়ি জামালপুর জেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নে হওয়ার কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধঘোষিত) ও এবং অঙ্গ সংগঠনের মিছিল, সভা-সেমিনারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন সাদিক।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাশে কিছু পোড়া কাপড় ও ছাই পড়ে রয়েছে। তবে স্মৃতিস্তম্ভের মূল কাঠামোর বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন দেখা যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী ও পুলিশ।
জামালপুর জেলা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক আমিনুল ইহসান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা আগে থেকেই এমন ঘটনার আশঙ্কার কথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু এরপরও ভোর রাতে দুর্বৃত্তরা এসে স্মৃতি স্তম্ভে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। প্রতিবাদ হিসেবে আজ সন্ধ্যায় স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি পালন করা হবে।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান জামালপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাকিবুল ইসলাম। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না।’