কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে প্রায় ৫০টি পরিবার গত দশ দিন ধরে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে একটি সরকারি পুকুরের পানি উপচে পড়ে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে এলাকাটির স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদেরকে পরনে কাপড় ভিজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সোমবার (২০ জুলাই) সরেজমিনে জানা যায়, উলিপুর পৌর শহরের একটি বিশাল অংশের বৃষ্টির পানি প্রায় ৫ একরের ওই সরকারি পুকুরে গিয়ে পড়ে। পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্র ভেদ করে কুড়িগ্রাম-চিলমারী সড়কের অবস্থান। এ সড়কের পশ্চিম দিকের পানি ড্রেনেজ ব্যবস্থায় বুঁড়ি তিস্তায় গিয়ে পড়লেও পূর্ব দিকের বিশাল এলাকার পানি নিষ্কাশনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। পুরানো ড্রেনেজ সিস্টেমের মাধ্যমে পৌর শহরের পূর্ব অংশের পানিগুলো ওই সরকারি পুকুরে গিয়ে জমা হয়।
কিন্তু সম্প্রতি টানা বৃষ্টির পর পুকুরের পানি উপচে লোকালয়ে চলে আসে। এতে পানিবন্দী পয়ে পড়ে অন্তত ৫০টি পরিবার।
ওই এলাকার বাসিন্দা মাওলানা মমতাজুল হাসান করিমি জানান, মাত্র দেড় থেকে ২০০ মিটার একটি ড্রেনেজ ব্যবস্থা করলেই পৌর শহরের পূর্ব অংশের পানি ওই ড্রেন দিয়ে মূল ড্রেনের সঙ্গে সংযোগ করা সম্ভব। তাহলে বৃষ্টির পানি আর কখনোই জলাবদ্ধতা তৈরি করবে না।
জলাবদ্ধ এলাকার রুবি বেগম, শিখা ও নূর কাশিম ইত্তেফাক ডিজিটালকে জানান, বহু আবেদন নিবেদন করেও পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের দিকে নজর দেন না। ফলে প্রতি বছর বর্ষায় আমাদেরকে অসহনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায় ২০০ মিটার ড্রেন নির্মাণসহ পুকুরের পশ্চিম দক্ষিণ পাড় এলাকায় গাইডওয়াল দিয়ে আমাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি সুগম করলে দুর্ভোগের অবসান হবে।
এ প্রসঙ্গে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুল আলম জানান, নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় পৌরসভার অনেক কাজেরই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আগামীতে ওই জলাবদ্ধতার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.টি.এম. আরিফ জানান, আমি রোববার সরেজমিন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছি। ওই এলাকার নাগরিকদের সমস্যা সমাধানের উপায় খুঁজে বের করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।