ভারী বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শেরপুরের বিভিন্ন নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানিতে ভেঙে গেছে নালিতাবাড়ী উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত লোহার বেইলি ব্রিজটি। ব্রিজের ওপর থাকা কয়েকজন মানুষ স্রোতে ভেসে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে পানি বৃদ্ধির ফলে নালিতাবাড়ী উপজেলার চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার ৩২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এছাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে ভোগাই ও মহারশী নদীর পানি। দ্রুত পানি বৃদ্ধির ফলে নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় ও যোগানীয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবারের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।
পাহাড়ি ঢলে একপর্যায়ে নয়াপাড়া দক্ষিণ সন্ন্যাসীভিটা এলাকায় চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত লোহার বেইলি ব্রিজটি পানিতে ভেসে যায়।
স্থানীয়ভাবে ধারণা করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, পানির তীব্র স্রোত বয়ে যাচ্ছে ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে। দুই কিশোরসহ মোট চারজন মানুষ ব্রিজটি দিয়ে হেটে পার হওয়ার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে তীব্র স্রোতে ব্রিজটি কাত হয়ে ভেঙে পড়ে। এসময় ব্রিজের হাতল ধরে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন ব্রিজের ওপর থাকা লোকজন। এসময় আশপাশের মানুষজনকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘ওহ আল্লাহ রক্ষা করো, ওহ আল্লাহ রক্ষা করো...।’
তবে পুলিশ জানিয়েছে ব্রিজ ভেঙে মানুষ স্রোতে ভেসে যাওয়ার ঘটনায় দুই শিশুসহ চারজনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি আশিকুর জামান বলেন,
বেইলি ব্রিজ ভাঙার সময় দুই শিশুসহ চারজন ভেসে গিয়েছিল। তাদের চেল্লাখালী নদী থেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। তারা শঙ্কামুক্ত এবং বর্তমানে সুস্থ আছেন বলে জানতে পেরেছি।
এদিকে কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে শেরপুরে তিনটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ৩ দিনের ভারী বর্ষণ ও নালিতাবাড়ী উপজেলার ভোগাই ও চেল্লাখালি, ঝিনাইগাতী উপজেলার মহারশি, কালঘোষা, শ্রীবরদী উপজেলার সোমেশ্বরী ও কর্ণঝোড়া নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তাছাড়া চেল্লাখালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে শেরপুর-গাজিরখামার-নালিতাবাড়ি সড়কের বালুঘাটা গোল্লার পাড় এলাকায় পাকা সড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। ফলে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন। পানি বৃদ্ধির ফলে ঝিনাইগাতি সদর বাজারে পানি প্রবেশ করে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পাশাপাশি নিচু এলাকার ৮ থেকে ১০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
ঢলে তীব্র স্রোতে ভেসে গেছে শতাধিক মাছের ঘের, পানির নিচে তলিয়ে গেছে গ্রীষ্মকালীন সবজি খেত ও সদ্য রোপন করা আমনের বীজতলা।
এই পরিস্থিতিতে ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমীন নৌকাযোগে পানিবন্দী মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে শুকনো খাবারসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন পানিবন্দী বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এছাড়া বন্যার্ত পরিবারের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে চালসহ শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।