যমুনা নদীর ভাঙনে সড়কে ধস, ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার শাখারিয়া এলাকায় যমুনা নদীর তীব্র স্রোত ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনে ধসে গেছে ঢাকা-টাঙ্গাইল-তারাকান্দি-ভূঞাপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের একাংশ। এতে করে সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষ, হুমকিতে রয়েছে ঘরবাড়িসহ বহু স্থাপনা।

সোমবার (২০ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া স্লুইসগেটের দক্ষিণ দিকে যমুনা নদীর তীরে উজানের প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাকে এই তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মঞ্জুরুল মোর্শেদের উপস্থিতিতে ভাঙনকবলিত স্থানে শ্রমিকেরা জিওব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত। 

পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুস সালাম পিন্টু ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশ দেন। সংসদ সদস্যের নির্দেশনার পর টাঙ্গাইল জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘটনাস্থলে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ শুরু করে।

এদিকে ভাঙনের কারণে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন। যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ সব ধরনের যানবাহনকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মাসখানেক ধরে শাখারিয়া-নলিন এলাকায় যমুনার ভাঙন চলছে। রোববার (১৯ জুলাই) দুপুর থেকে ঢাকা-তারাকান্দি সড়কের শাখারিয়ায় ২৫ মিটার অংশজুড়ে ভাঙন শুরু হয়। এতে করে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে যানবাহনগুলোকে বিভিন্ন জায়গা দিয়ে ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। গুণতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রতি বছর জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হলেও স্থায়ী নদীশাসনের উদ্যোগ না থাকায় সংকটের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। দ্রুত একটি টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। তাৎক্ষণিকভাবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের কাজ চলছে। শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধের যেসব অংশ সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো সংস্কার করা হলে সড়কটি নিরাপদ থাকবে বলে আশা করছি।