রাজবাড়ী ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান, ব্যবস্থাপনা, জনবল সংকট এবং উন্নয়নকাজের ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে একাধিক নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ককে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) সকালে হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, *“হাসপাতালে আপনার কাজের কোনো মনোযোগ দেখা যাচ্ছে না। জনগণকে সেবা দিতে না পারলে এই দায়িত্বে থাকার প্রয়োজন নেই। কাজ করতে না পারলে চলে যান।”*
সভায় হাসপাতালের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম এখনো পুরোপুরি সরবরাহ করা হয়নি। হাসপাতালের জন্য প্রায় ১০ কোটি টাকার আসবাবপত্র কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ কোটি টাকার ফার্নিচার ক্রয়ের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তিন সদস্যের একটি কমিটি টেন্ডার কার্যক্রম পর্যালোচনা করবে।
সভায় আরও জানানো হয়, দেড় বছর ধরে চক্ষু বিভাগের কনসালট্যান্ট ও জুনিয়র কনসালট্যান্ট না থাকায় ওই বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ রয়েছে। পাশাপাশি গত দুই বছর ধরে মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া ১৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মধ্যে একজন মেডিসিন বিভাগে যোগ দিলেও কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসক এখনো দায়িত্ব নেননি।
হাসপাতালের জনবল সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। বর্তমানে অনুমোদিত ৬৮টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন। অর্থাৎ ৪২টি পদ শূন্য। চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ২৬২টি পদের মধ্যে ৮৩টি এখনো শূন্য রয়েছে। গত মাসে পদায়ন হওয়া ১২ জন মেডিকেল অফিসারের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন।
প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের ভবনের নবম থেকে দ্বাদশ তলার নির্মাণকাজ দ্রুত শুরু করার তাগিদ দেন। পাশাপাশি নতুন যন্ত্রপাতি ক্রয়, রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবহার নিয়মিতভাবে তদারকির নির্দেশ দেন।
সভায় হাসপাতালের ২৫০ শয্যার পূর্ণ কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, আইসিইউ চালু, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক কেবিন, চিকিৎসা ভাতা দ্রুত বিতরণ এবং হাসপাতালকে দালালমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি।
এ ছাড়া হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অ্যাম্বুলেন্স পার্কিং নিয়ন্ত্রণ, মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক গ্যারেজ নির্মাণ, দালালদের তালিকা করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর, ময়নাতদন্ত কক্ষ স্থানান্তর, ওষুধের মজুত ও বিতরণ নিয়মিত মনিটরিং এবং হাসপাতাল চত্বরে বৃক্ষরোপণের নির্দেশও দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাসপাতালের প্রতিটি কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির আওতায় আনতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নেন।