বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য, দুই যুবকের আত্মহত্যা

বিশ্বকাপ ফুটবল ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে দুই জেলায় স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হয়ে দুই যুবকের আত্মহত্যা ও সাতক্ষীরায় হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে এক আর্জেন্টিনা সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে।

সেনবাগ (নোয়াখালী)  সংবাদদাতা জানান,

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে অভিমান করে রায়হান (২৬) নামে এক যুবক আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার  কেশারপাড় ইউনিয়নের কেশারপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রায়হান ওই এলাকার আব্দুল বারিকের ছেলে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রায়হান রাতে এলাকার সবার সঙ্গে ফাইনাল খেলা উপভোগ করেন। খেলা শেষ করে বাড়িতে যাওয়ার পর কোনো একটি বিষয় নিয়ে তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি ও মনোমালিন্য হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীর উপর অভিমান করে তিনি নিজের ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। টের পেয়ে পরিবারের লোকজন পুলিশে খবর দিলে সেনবাগ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

সেনবাগ থানার ওসি আব্দুর রহিম সরকার সোমবার দুপুরে বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে। লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। পারিবারিক কলহের ঘটনা রয়েছে। এছাড়া অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখে গতকাল সোমবার ভোররাতে বাড়ি ফেরার পর স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে আর্জেন্টিনার সমর্থক দুই সন্তানের জনকের আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। তার নিজ ঘর থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত সুমন হোসেন (৩২) উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষিকাজ করতেন। তার পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সি দুই সন্তান রয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, তিনি আজের্িন্টনা ফুটবল দলের সমর্থক ছিলেন।

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে আর্জেন্টিনার দল হেরে যাওয়ায় সাতক্ষীরায় হূদেরাগে আক্রান্ত হয়ে হাফিজুর রহমান ওরফে লালটু (৩৫) নামে এক আর্জেন্টিনার সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে সাতক্ষীরা পৌর শহরের রসুলপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। হাফিজুর সাতক্ষীরা পৌর শহরের রসুলপুর এলাকার মো. আনছার আলীর ছেলে।

হাফিজুরের আত্মীয় জাকির হোসেন জানান, গতকাল সোমবার ভোররাতে কদমতলা এলাকায় বড় পর্দায় তিনি আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল খেলা দেখেন। এর আগে রাতে সেখানে রান্না করে তারা সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া করেন। খেলায় আর্জেন্টিনা হেরে যাওয়ার পর মন খারাপ করে তিনি বাড়ি চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর তিনি হঠাত্ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতলে নিয়ে গেলে সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তৃব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।