হাসছে স্পেন, কাঁদছে আর্জেন্টিনা

এক হূদয় ভেঙ্গে গেছে। অন্য হূদয়ে টগবগ আনন্দের ফোয়ারা বইছে। ফুটবল দুনিয়ায় এখন এটাই হচ্ছে। কেউ কাঁদছে ফাইনালে আর্জেন্টিনার হেরে যাওয়ার কষ্টে, আর কেউ উল্লাস করছে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের আনন্দে।

হাসছেন স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল। কাঁদছেন মেসিরা। কতো স্বপ্ন নিয়ে স্পেন আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে ওঠেছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনাকে সেখানেই থামিয়ে দিয়েছে স্পেন। ফেরান তেরেসের একমাত্র গোলে ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্প্যানিয়ার্ডরা। ২০১০ সালের পর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নটা বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছিল। জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়েলরা আরেকটা বিশ্বকাপ খুব করে চাইছিলেন। সেই আশা পূরণ করে দিয়েছেন নতুন প্রজন্ম রদ্রি, লাপোর্তে, ফাবিয়ান, ওরজাবাল, উনাই সিমন, পেদ্রো, ইয়ামলারা। ফাইনালের পর আজের্িন্টনা এবং স্পেন সেই রাতেই যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছে। আর্জেন্টিনা ট্রফি জিততে না পারলেও মেসিদের সম্মানে একদিনের জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আর্জেন্টিনার কোনো কোনো ফুটবলার তাদের ক্লাবে ফিরে গেছেন।

বীরের বেশে স্পেন দেশে ফিরেছে। স্পেন ফুটবলাররা মাদ্রিদে বিমানবন্দরে পৌঁছালে ফুটবলারদের অভিনন্দন জানাতে লাখো স্প্যানিয়ার্ড শহরে ভিড় করেন। রাস্তায় নেমে আসে সাধারণ জনগণ। ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ী নায়কদেরকে বীরের সংবর্ধণা দেবে স্পেন সরকার।

কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনার কাছে ট্রফি ছিল ১৩০৯ দিন। সেই ট্রফি হারিয়ে ফেলল আর্জেন্টিনা, পর পর দুই বার ট্রফি জয়ের সাধ পূরণ হলো না। যেটি আছে ব্রাজিল, ইতালির।  ১৯৭৮ বিশ্বকাপে প্রথম বার আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এরপর ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জেতার পর ৯০ ইতালি বিশ্বকাপে দ্বিতীয়বার ট্রফি জয়ের সুযোগ আসে আর্জেন্টিনার সামনে। ফাইনালে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় মারাদোনার আর্জেন্টিনা। সেবার স্বপ্ন ভঙ্গ হয়। কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর এবার আর্জেন্টিনার মেসির সামনেও পরপর দুই ট্রফি জয়ের সেই সুযোগ এসেছিল। এবারও হলো না,  ১-০ গোলে হেরে যায় ইউরোপের দল স্পেনের কাছে।

১৬ বছর পর ট্রফি ঘরে তুলল স্পেন। স্পেন দেখিয়েছে কীভাবে ফাইনাল জিততে হয়। আর্জেন্টিনার ঘরে ছিল মেসির মতো একজন বিশ্ব সেরা ফুটবলার। যাকে ঠোকাতে কেউ পারেনি। কাতার বিশ্বকাপের চেয়ে যিনি এবারের বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে দলকে ফাইনালে তুলেছেন। সেই আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়েছে স্পেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের মতো শক্তিশধর দেশকে যেভাবে রোবট বানিয়ে হারিয়েছিল স্পেন, ঠিক একই ভাবে ফাইনালেও আর্জেন্টিনাকে রোবট বানিয়ে দিয়েছে। ভাবা যায় ? আর্জেন্টিনা ১১৫ মিনিট পর্যন্ত একটা শট করতে পারেনি স্পেনের গোলপোষ্টে। কেন পারেনি সেটা নিয়ে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা অনেক দিন পর্যন্ত গবেষণা করতে পারবেন। তবে একটা কথা সত্য স্পেন যেভাবে একটা করে ম্যাচ পার হয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে, তাতে বলা যায় ট্রফি পাওয়ার যোগ্য ছিল। তারা ট্রফি ডিজার্ভ করে। ফাইনাল খেলাটা ফাইনালের মতো হয়নি। কথাটা আর্জেন্টাইনদের। স্পেন যেভাবে আক্রমণাত্বক ফুটবল খেলেছে সেই হিসাবে গোল করতে পারেনি। কারণ খেলা দেখে মনে হয়েছে খেলা হচ্ছে স্পেন বনাম আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।

সবার প্রশ্ন- উড়ন্ত গতিতে চলা আর্জেন্টিনার এই পরিণতি হলো কেন। আর্জেন্টিনা আত্মসমর্পণ করেছে। আর স্পেন বলছে তাদের কৌশলের জালে আটকা পড়েছে আর্জেন্টিনা। আলভেরাজদেরকে আটকে ফেললে মেসি আটকে যাবে। বল পাবেন না মেসি। মেসি যদি বল পায় তাহলে খেলাটা গড়ে দেবে। অন্যদেরকে থামিয়ে দিতে পারলে মেসিও থেমে যাবে। নানা হিসাব নিকাষ হচ্ছে এখন। কোনটা সত্য সেটা স্পেন ভালো বলতে পারবে।

ফাইনালে হেরে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন মেসি। মেসির কান্না শত কোটি ভক্তকে কাঁদিয়েছে। মেসির দেশের একাধিক বয়স্ক মানুষ হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন। হতাশায় মদ্যপান করে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কেউ কেউ।

বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার গোল্ডেনবল পুরস্কার পাওয়া স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি মেসি সম্পর্কে বলেছেন, মেসি যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। ম্যানচেষ্টার সিটির এই তারকা রদ্রি মেসির সঙ্গে ছবি তুলেছেন ফাইনালে। রদ্রি বলেছেন, ফাইনালের পর আমি মেসিকে কাঁদতে দেখেছি। মেসি আর্জেন্টিনাকে অনেক দিয়েছেন। এটা সারাজীবন ইতিহাস হয়ে থাকবে।’