দুধ দিয়ে গোসল করে ‘আওয়ামী লীগ ছাড়া’ ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ ঘিরে কার্যালয়ে হামলা

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে ইউপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও সচিবকে মারধরের ঘটনা উঠেছে। সোমবার (২অ জুলাই) রাতে ইউপি সচিব এ বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এদিন সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফতেহাবাদ ইউপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্ট ফতেহাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন সেক্রেটারি কামরুজ্জামান মাসুদ দুধ দিয়ে গোসল করে আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি রুবেল হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি হয়ে তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থাকেন। এ সময় তিনি শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে ৩ মাসের ছুটি নিয়ে ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুল ওরফে রুহুল আমিনকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন।

পুলিশ, লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে ফতেহাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের গতকাল আবার দায়িত্ব নেওয়ার কথা ছিল। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউপি কার্যালয়ের সামনে একদল মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে একদল মানুষ ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবু হানিফের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন। এ সময় কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়।

এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে দেবীদ্বার থানার পুলিশ। আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর কামরুজ্জামান মাসুদ একাধিক মামলার আসামি হয়ে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটিতে যান এবং ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন।

হত্যা মামলায় হাইকোর্ট থেকে ৮ সপ্তাহের জামিনে এসে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রায় একমাস পূর্বে হাইকোর্ট থেকে আবারো জামিনে আসেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের বরাবরে আবেদন করে চেয়ারম্যান পদ ফিরে পান। সোমবার দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার কথা ছিল তার।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন রুহুল বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। গতকাল দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন দলের সমর্থকেরা সচিবের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন।

এ বিষয়ে জানতে ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা ও ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, ইউপি সচিবের ওপর হামলার ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে থানায় এজাহার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্রও পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে।

দেবীদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন ছিল। হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এসময় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ওসি।