র্যাব ও সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ডিজিএফআইয়ের আয়নাঘর পরিদর্শনে যাবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারক। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এমন সিদ্ধান্ত জানান ।
গতকাল মঙ্গলবার প্রসিকিউশনের পক্ষে এই আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। ট্রাইব্যুনালকে র্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির গোপন বন্দিশালা তথা আয়নাঘরে পরিদর্শনে যাওয়ার আবেদন করেন তিনি। এ সময় আওয়ামী লীগের টানা শাসনামলে এসব বন্দিশালায় বিরোধী মতাদর্শের লোকদের তুলে নিয়ে নির্যাতনসহ গুমের বর্ণনা দেন। পরে আবেদনটি বিবেচনায় নেয় ট্রাইব্যুনাল । একই সঙ্গে পরিদর্শনে যাওয়ার সম্মতি জানায় ট্রাইব্যুনাল ।
এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে বাংলাদেশে অনেক গুমের ঘটনা ঘটেছে। গুমের শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে বিভিন্ন আয়নাঘরে রাখা হতো, যা জেআইসি বা টিএফআই সেল হিসেবে পরিচিত। এর মধ্যে র্যাব- ১-এ টিএফআই সেল, কচুক্ষেতে ডিজিএফআইয়ের সদর দপ্তরে জেআইসি ও ডিবি কার্যালয়ে কয়েকটি আয়নাঘরের সন্ধান রয়েছে। মামলার স্বার্থে এসব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন ট্রাইব্যুনাল । তিনি বলেন, প্রচলিত আইন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজন হলে বিচারকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে পারেন। অতীতে রুয়ান্ডা ও সাবেক যুগোস্লাভিয়া ট্রাইব্যুনালেও বিচারকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছিলেন এবং সেই পর্যবেক্ষণ বিচারিক কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছিল।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা একটি আবেদন করেছিলাম। নিয়ে আবেদনটি বিবেচনায় ট্রাইব্যুনাল-১ সম্মতি জানিয়েছেন । চিফ প্রসিকিউটর জানান, যে কোনো সময় দিন-তারিখ দেবেন ট্রাইব্যুনাল। পরিদর্শনের ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনকে তারা নোটিশ করতে পারেন। এরপরই যৌথভাবে পরিদর্শন কার্যটি সম্পন্ন হবে ।