চট্টগ্রামে বন্যায় শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা সেবা বন্ধ রয়েছে। এসব চিকিৎসাকেন্দ্র বন্যায় ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোর অবকাঠামো ভেঙে পড়েছে, দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, বৈদ্যুতিক তার,আসবাবপত্র ও পানির পাম্প নষ্ট হয়ে গেছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা হাসপাতাল,ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকের তালিকা তৈরি করে মেরামত ও চিকিৎসা উপযোগী করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশল বিভাগে পাঠিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে অনেকগুলো নতুনভাবে নির্মাণ করতে হবে। এতে প্রান্তিক অঞ্চলের দরিদ্র মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চট্টগ্রাম জেলায় প্রায় ৫২৭টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। তার মধ্যে বন্যায় শতাধিক কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপ-কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পানি ডুবে গিয়ে ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্র চিকিৎসাসেবা পরিচালনার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বসার জায়গা নেই। এতে এলাকাবাসী চিকিৎসা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা, পরিববার পরিকল্পনা বিষয়ক পরামর্শ,গর্ভবতী ও শিশুদের টিকা প্রদান করা হয়ে থাকে।
বন্যায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। যেসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে সেগুলোতে মাটি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো অনেক দিন পানিতে নিমজ্জিত ছিল। এতে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফ্লোর ফেটে গেছে, দেওয়াল দেবে গেছে, পানির মোটর, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, পানির ফিল্টার, টয়লেট নষ্ট হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে প্রায় ৫০টি কমিউনিটি ক্লিনিক নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। বাকিগুলো জরুরিভিত্তিতে মেরামত করে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার উপযোগী করতে হবে। এছাড়া বন্যায় সাতকানিয়া ও আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। হাসপাতালের নিচতলায় বন্যার পানি ঢুকে আসবাবপত্র, আইপিএস, কলাপসিবল গেট, জেনারেটর নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেঙে পড়েছে।
এছাড়া সারা দেশের কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো প্রায় এক বছরের অধিক সময় ধরে সরকারি ওষুধ সরবরাহ নিয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। ওষুধ সরবরাহ বন্ধ থাকায় মানুষ সেবা পাচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ওষুধ নিয়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রান্তিক দরিদ্র জনগোষ্ঠী সরকারি চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা যায়, কমিউনিটি ক্লিনিক গুলো আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতায় পরিচালিত হতো। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে স্ব স্ব উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সরকারি বরাদ্দ পাওয়া ওষুধ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এখন কমিউনিটি ক্লিনিকের আলাদা ট্রাস্ট্র করা হয়েছে। ট্রাস্ট্রের আওতায় এখন পরিচালিত হবে। ফলে ব্যবস্থাপনা আলাদা হওয়ার কারণে ওষুধ সরবরাহ নিয়ে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। কমিউনিটি ক্লিনিক গুলোতে একসময় ২৭ ক্যাটাগরির ওষুধ সরবরাহ দেওয়া হতো। পরবর্তীকালে কমিয়ে ২২ ক্যাটাগরির ওষুধ সবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকায় অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন মাস অন্তর অন্তর ওষুধ বিতরণ করা হয়। সম্প্রতি সময়ে ডায়াবেটিক ও উচ্চ রক্তচাপের একটি করে ওষুধ সরবরাহ চালু করা হয়। অনেক কেন্দ্রে নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে। কিন্তু ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ওষুধ সরবরাহ অনিয়মিত হওয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে সেবা গ্রহীতারা বঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমানে দেশে ১৪ হাজার ৪২৫পি কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। তার মধ্যে ১৪ হাজার ৩৬৩টি চালু রয়েছে। দেশের সব গুলো কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ নিয়ে একই ধরনের সমস্যা বিরাজ করছে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অপারেশন প্ল্যান পরিবর্তনের কারণে সব কিছু গুছিয়ে উঠতে সময় লাগছে। কমিউনিটি ক্লিনিক এখন থেকে আলাদা ট্রাষ্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হতো। মাঝেমধ্যে কিছু ওষুধ আসে। বন্যায় অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তালিকা তৈরি করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকৌশল বিভাগে পাঠানো হয়েছে।