বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন যে সৌভাগ্যবানেরা

পরকালে সফল হতে পৃথিবীর জীবনে গুনাহ বা পাপ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি উত্তম আমল করা প্রতিটি মুমিনের জন্য জরুরি। মহান আল্লাহর অনন্য নিয়ামতগুলোর একটি হলো বান্দাকে বিনা হিসাবে জান্নাত দান করা। ইসলামে বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করার সৌভাগ্যের কথা সহিহ হাদিসে এসেছে। 

বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারীদের বৈশিষ্ট্য

সহিহ বুখারির ৬৫৪১ নম্বর বর্ণনায় হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত এক দীর্ঘ হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) এই সৌভাগ্যবান মানুষদের পরিচয় এবং তাদের তিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ করেছেন। বৈশিষ্ট্য হলো—

  • যারা আল্লাহর ওপর এতটাই ভরসা রাখে যে রোগবালাই বা বিপদে কোনো ধরনের শিরক বা অবৈধ ঝাড়ফুঁকের আশ্রয় নেয় না।
  • ইসলামে কোনো দিন, ক্ষণ, পাখি বা বস্তুকে অশুভ মনে করা সম্পূর্ণ নিষেধ। বিনা হিসাবে জান্নাতিরা এই কুসংস্কার থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকে।
  • যেকোনো পরিস্থিতিতে যাদের একমাত্র ভরসার স্থল হয় আল্লাহ তাআলা।

জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারীদের বৈশিষ্ট্য
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, জান্নাতে প্রথম প্রবেশকারীদের কিছু বৈশিষ্ট্য হবে—

  • চাঁদের মতো উজ্জ্বল চেহারা: ওই জান্নাতিদের চেহারা হবে পূর্ণিমা রাতের চাঁদের মতো আলোকোজ্জ্বল।
  • পবিত্র ও রোগমুক্ত দেহ: জান্নাতে তাদের থুতু ফেলার প্রয়োজন হবে না। প্রস্রাব-পায়খানার বেগও হবে না। তাদের গায়ের ঘাম হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধময়।
  • সোনা ও রুপার জিনিসপত্র: জান্নাতে তাদের পানাহারের পাত্রগুলো হবে সোনার তৈরি এবং চিরুনি হবে সোনা ও রুপার।
  • এক প্রাণ ও হিংসামুক্ত অন্তর: তাদের সবার আকৃতি হবে আদি পিতা হজরত আদম (আ.)-এর মতো। তাদের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ, হিংসা বা মতভেদ থাকবে না; তারা হবে দুই দেহ, এক প্রাণ। সকাল-সন্ধ্যা আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করবে। (সহিহ বুখারি: ৩২৪৫)

শিক্ষা
বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশের সৌভাগ্য অর্জনের জন্য একজন মুমিনের উচিত—

  • আল্লাহর ওপর দৃঢ় তাওয়াক্কুল রাখা।
  • শিরক ও কুসংস্কার থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকা।
  • ঈমান, তাকওয়া ও নেক আমলে জীবন পরিচালনা করা।
  • আল্লাহর কাছে দোয়া করা, যেন তিনি আমাদের বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সেই সৌভাগ্যবান বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। আমিন।