সুদানের চার রাজ্যে নতুন করে কলেরার থাবা

চলমান যুদ্ধের কারণে মানবিক সংকট ঘনীভূত হওয়ার মধ্যে সুদানের চারটি রাজ্যে নতুন করে কলেরার লক্ষণ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। 

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাজধানী খার্তুমে অনুষ্ঠিত ফেডারেল এমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টারের এক বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। 

সুদানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায় যে উত্তর কর্দোফান, পশ্চিম কর্দোফান, দক্ষিণ দারফুর এবং খার্তুম রাজ্যে সন্দেহভাজন কলেরা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। তবে ঠিক কতজন আক্রান্ত হয়েছেন সেই সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। একই সঙ্গে হামের সংক্রমণ কমার খবর দিয়ে মন্ত্রণালয় জানায় যে আক্রান্ত নতুন ২৫ জন রোগীর মধ্যে কেউ মারা যাননি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লিউএইচও সতর্ক করে জানিয়েছে যে দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে কলেরা ছড়িয়ে পড়ে ইতোমধ্যে ১১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১ হাজার ৩৩০ জনেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। সংস্থাটি সুদানকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছে যে দেশটির তিন কোটি ৩০ লাখ মানুষের সহায়তা প্রয়োজন, যার মধ্যে দুই কোটি ১০ লাখ মানুষের জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দরকার। গৃহযুদ্ধের কারণে এক কোটি ৩৪ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে যে উত্তর কর্দোফানের বারা শহরের পশ্চিমাঞ্চলে দুই লাখেরও বেশি মানুষ কলেরা ও হামের প্রকোপের পাশাপাশি মারাত্মক খাদ্য ও ওষুধ সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। গত বছরের অক্টোবর থেকে সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় পুরো দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি