ইসলাম ধর্মে বহুবিবাহের বৈধতা, এর কঠোর শর্ত এবং সমাজের কিছু মানুষের অপরিপক্ব আচরণের কারণে দ্বীনের বিধান নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি নিয়ে সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন জনপ্রিয় আলেম ও আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ। গত ৯ মে তার ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে ‘একাধিক বিয়ে করে আল্লাহর কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারবেন?’ শিরোনামে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন।
আলোচনায় শায়খ আহমাদুল্লাহ জানান, ইসলাম পুরুষদের জন্য একাধিক বিয়ের অনুমতি দিলেও এর সঙ্গে অত্যন্ত কঠোর কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। প্রথমত, একাধিক স্ত্রীর সার্বিক ভরণপোষণ দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, স্ত্রীদের মধ্যে পুরোপুরি ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করার ক্ষমতা থাকতে হবে।
তিনি পবিত্র কুরআনের রেফারেন্স টেনে বলেন, যার মধ্যে এই আশঙ্কা থাকে যে একাধিক স্ত্রী হলে তিনি একজনের প্রতি ঝুঁকে পড়বেন এবং অন্যের ওপর বৈষম্য বা জুলুম করবেন, তার জন্য একটির বেশি বিয়ে করা জায়েজ নয়।
অতীতের সঙ্গে বর্তমান সমাজের তুলনা করে এই আলেম বলেন, আজ থেকে ৩০-৪০ বছর আগেও সমাজে একাধিক বিয়ের ঘটনা স্বাভাবিক ছিল এবং তা নিয়ে কোনো উচ্চবাচ্য হতো না। কিন্তু বর্তমানে কিছু মানুষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে নেতিবাচক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে ইসলামের বিভিন্ন বিধানকে সমাজে হেয় করার একটি অপচেষ্টাও চলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, বহুবিবাহকে কোনোভাবেই ছেলেখেলা, তামাশা বা মনের খায়েশ পূরণের অস্ত্রে পরিণত করা যাবে না। যারা এমনটি করেন, তারা সমাজে দ্বীনের বিধানকে হাস্যকর করে তুলছেন এবং আল্লাহর কাঠগড়ায় আসামির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে পারেন।
ইসলামে বহুবিবাহের বিধানটি মানুষের বাস্তব জীবনের প্রয়োজনকে সামনে রেখেই দেওয়া হয়েছে—এমন মন্তব্য করে শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, অনেক সময় প্রথম স্ত্রী দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতার কারণে স্বামীর সঙ্গ দিতে অপারগ হন। এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে নিজের চরিত্র হেফাজতের স্বার্থে ইসলামে দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলার দেওয়া বিধান মানুষের বুঝে আসুক বা না আসুক, তা মানুষের জন্য কল্যাণকর। তাই আল্লাহর কোনো বিধান নিয়ে মনে বিতৃষ্ণা পোষণ করা ইমানের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। পরিশেষে তিনি মুসলমানদের অত্যন্ত দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান, যেন কোনো অবস্থাতেই তাদের ব্যক্তিগত বা দায়িত্বহীন কাজের কারণে ইসলামি বিধান মানুষের হাসির পাত্রে পরিণত না হয়।