হলের ওয়াশরুমে গোপন মোবাইল

খুবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের ওয়াশরুমে গোপনে মোবাইল ফোন রেখে ভিডিও ধারণের অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন ছাত্রীরা। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু বিচার ও ক্যাম্পাসে সার্বিক নিরাপত্তার দাবিতে বুধবার (২২ জুলাই) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। পরে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনে কর্মরত ইমাম হাসান (পিতা আসাদুজ্জামান) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করেন তারা। শিক্ষার্থীরা জানান, তিনি প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন। পরে তাকে আটক করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইলে একাধিক গোপন ভিডিও পাওয়া গেছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে গোপনে ধারণ করা ভিডিও বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে দেওয়া হতো এবং এতে তার স্ত্রীরও সম্মতি ও সম্পৃক্ততা ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তকে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন।

যৌন হয়রানিমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামেন। বুধবার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের হাদী চত্বরে একটি বৃহৎ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

আন্দোলনকারীরা জানান, অতীতেও শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির বেশ কয়েকটি ঘটনায় প্রশাসন কোনো দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়নি। তাই এবার সুষ্ঠু বিচার ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। আন্দোলনের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, পকেট গেট ও প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট বলেন, ঘটনার তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন হবে না। তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে জানানো হবে।