নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রের দাবি অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরকালে ভারতে অবস্থানরত সাবেক ক্ষমতাচ্যুত পলাতাক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বলে জোর গুঞ্জন ওঠে। এর ফলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগিরই পদত্যাগ করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ এবং তার জায়গায় স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সংবিধানের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়া বা অনুপস্থিতিকালীন পরিস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সংবিধান বলা হয়েছে, দেশের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রাখতে বাংলাদেশের সংবিধানের ওপরই পুরো প্রক্রিয়ার সাংবিধানিক নির্ভরতা তৈরি হচ্ছে। সংবিধানের চতুর্থ ভাগে ‘নির্বাহী বিভাগ’ শিরোনামের ১ম পরিচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি পদ, মেয়াদ ও তার অনুপস্থিতিকালীন প্রশাসনিক কাঠামোর বিস্তারিত রূপরেখা দেওয়া রয়েছে। বিশেষ করে সংবিধানের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়া বা অনুপস্থিতিকালীন পরিস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালনের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
সংবিধানের এই ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে ক্ষেত্রমত রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত কিংবা রাষ্ট্রপতি পুনরায় স্বীয় কার্যভার গ্রহণ না করা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
এই বিধানটির মূল উদ্দেশ্য হলো রাষ্ট্রে যেন এক মুহূর্তের জন্যও অভিভাবকত্ব বা সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতার কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি না হয়। ফলে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে বা তার পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়মানুযায়ী নির্বাচিত ও দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকারই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের সমস্ত দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পাদন করবেন। সংবিধানের এই সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মুহূর্তে প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।