দুদকের মামলায় বাবা-স্ত্রীসহ খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মচারীর কারাদণ্ড

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক দুটি মামলায় খাদ্য অধিদপ্তরের এক সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক, তার বাবা ও স্ত্রীকে পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ড এবং মামলার সংশ্লিষ্ট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে পাবনার স্পেশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক আবু সালেহ মো. সালাহউদ্দিন খাঁ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিই আদালতে অনুপস্থিত (পলাতক) ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন- সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক মো. মনিরুল ইসলাম, তার বাবা মো. সহিদুল ইসলাম প্রামাণিক ও স্ত্রী মোছা. ডলি বেগম।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি মলয় কুমার দাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর দুদকের দায়ের করা এক মামলায় অভিযোগ করা হয়, মনিরুল ইসলাম জ্ঞাতআয়বহির্ভূত ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা তার বাবার নামে থাকা জমিতে ভবন নির্মাণে বিনিয়োগ করেন। এ কাজে তার বাবা সহিদুল ইসলাম প্রামাণিক অবৈধ সম্পদ বৈধ করায় সহায়তা করেন।

অন্যদিকে ২০২২ সালের ২ জানুয়ারি দায়ের করা অন্য মামলায় বলা হয়, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা মনিরুল ইসলাম তার স্ত্রী ডলি বেগমের ব্যাংক হিসাবে জমা করেন। পরবর্তীতে ওই অর্থের মধ্যে ৬০ লাখ টাকা স্ত্রীর নামে স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হিসেবে সঞ্চয় করা হয়।

মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা শেষে ২০২২ সালের ১০ আগস্ট আদালত অভিযোগ গঠন করেন। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে পৃথক রায়ে আদালত আসামি মনিরুল ইসলামকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় প্রতিটি মামলায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি প্রথম মামলায় ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় মামলায় ৬০ লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

এ ছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগে সহিদুল ইসলাম প্রামাণিক ও ডলি বেগমকে দুদক আইনের ২৭(১) ধারা ও দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় পাঁচ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।