গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমিরের প্রশ্ন

একই ডেকচিতে রান্না করা গোশত হালাল আর ঝোল হারাম হয় কীভাবে

সংসদ নির্বাচন বৈধ হলে গণভোট কীভাবে অবৈধ হয়—ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রতি এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘কী চমৎকার যুক্তি! একই ডেকচিতে গোশত পাকানো হয়েছে। গোশতের ঝোল হলো হারাম আর গোশত হইল হালাল। কী আশ্চর্য ব্যাপার!’

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর–সংলগ্ন ফলপট্টি এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের দাবিতে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

বক্তব্যে জামায়াত আমির স্পষ্ট করে বলেন, নীতিগতভাবে দেখলে দুটি বিষয়ই সমান। গণভোট যদি হারাম হয়, তবে সংসদ নির্বাচনও হারাম হতে বাধ্য। আর সংসদ নির্বাচনই যদি অবৈধ হয়ে যায়, তবে বর্তমান সরকারের কোনো বৈধ ভিত্তি থাকে না।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাই শহীদদের প্রতি দায়বদ্ধতা পূরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছিল। নির্বাচনের আগে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নিজেও গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন, জামায়াতও একই বার্তা দিয়েছিল। কিন্তু বিজয়ী হয়ে এসে এখন গণভোটকে অবৈধ বলা হচ্ছে, যা জনগণের রায়ের চরম অবমাননা।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও জানান, সংসদ নির্বাচনের পর তাদের প্রতিনিধিরা নির্ধারিত দুটি শপথই গ্রহণ করেছেন, কিন্তু সরকারি দল একটি শপথ এড়িয়ে গেছে। জনগণের রায়কে অপমান করে ইতিহাসে কেউ রেহাই পায়নি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সরকারকে দ্রুত এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার তাগিদ দেন। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদের চূড়ান্ত অবসান ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সংসদে এবং রাজপথে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

নিজের দলের নেতাকর্মী ও শহীদদের অবমূল্যায়ন না করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের সরকার, সংসদ ও বিরোধী দল গঠিত হয়েছে, তাঁদের ভুলে গেলে শহীদদের আত্মা অভিশাপ দেবে।

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সাম্প্রতিক প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান কটাক্ষ করে বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের তোপে ফ্যাসিবাদ দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন দূর থেকে বারবার দেশে ফেরার তারিখ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এর আগে ১৩ বার দেওয়া তারিখ ভুল প্রমাণিত হয়েছে এবং এবার ১৪ নম্বর চেষ্টা হিসেবে আগামী ডিসেম্বরের কথা বলা হচ্ছে। দেশের জাগ্রত যুবসমাজ অপরাধীদের গলায় ফাঁসির রশি পরাতে প্রস্তুত হয়ে আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও নাগরিক নানা সংকটের জন্য সর্বত্র চোর ও কায়েমি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর দাপটকে দায়ী করেন জামায়াত আমির। তিনি গ্যাস সংযোগের উদাহরণ টেনে বলেন, বৈধ গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না, অথচ চোরাই সংযোগে ঠিকই গ্যাস সরবরাহ হচ্ছে। একইভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে হকার বসানোর পেছনে প্রভাবশালী গডফাদারদের চাঁদাবাজিকে দায়ী করে তিনি অবিলম্বে এসব সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।