দুই মাস পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়ালো ১০০ ডলার, মূল্যস্ফীতির শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত মে মাসের পর এই প্রথম আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম এই উচ্চতায় পৌঁছাল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সংকটটি ঘনীভূত হতে শুরু করে গত ২২ জুলাই থেকে, যখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৯৫ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। লোহিত সাগরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক দফায় দফায় হামলার কারণে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি রুট মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহের মূল পথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলেছে।

প্রতিবেদনে জানা যায়, লোহিত সাগরে ঘোষিত নৌ-অবরোধ অমান্য করার অজুহাতে ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের দুটি বৃহৎ তেলের ট্যাংকার 'এনসেলিয়া' ও 'লায়লা'র ওপর হামলা চালায়। ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ ড্রোন ব্যবহার করে চালানো ওই হামলায় একটি ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনার পরই বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগেও চলতি বছরের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ বিমান হামলা চালালে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সেসময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল সরবরাহ প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছিল এবং এপ্রিলে তেলের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ১২৬ ডলারে গিয়ে ঠেকেছিল। পরবর্তীতে মে মাসের শেষে দাম কিছুটা কমে এবং জুলাইয়ের শুরুতে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলে তেলের বাজার ব্যারেলপ্রতি ৭১ ডলারে নেমে স্বস্তি ফিরে পেয়েছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত সমঝোতা ভেস্তে যাওয়া এবং পারস্য উপসাগরে নতুন করে গোলাগুলি ও হামলা শুরু হওয়ার ফলে তেলের বাজার আবারও দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে উঠল। বাজার বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে সংঘাত চলতে থাকলে বিশ্ববাজারে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বৃদ্ধি পাবে।