খুলনায় রান্নার পর সবুজ হয়ে গেল গরুর মাংস, পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ

খুলনার পাইকগাছায় রান্নার সময় গরুর মাংস সবুজ হয়ে যাওয়ার ঘটনার পর কাঁচা ও রান্না করা উভয় মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। তবে এসব নমুনা ঠিক কোন পরীক্ষাগারে (ল্যাবরেটরি) পাঠানো হবে এবং কী কী বিষয় (প্যারামিটার) পরীক্ষা করা হবে, সে বিষয়ে আগামী রোববার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাইকগাছা উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর (মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট) উদয় কুমার মণ্ডল জানান, ঘটনার খবর পেয়ে মাংস ফেলে দেওয়ার আগেই তিনি রান্না করা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাংস বিক্রেতার দোকানের ফ্রিজ থেকে প্রায় ৬০০ গ্রাম কাঁচা মাংস জব্দ করা হয়। পরে গত বৃহস্পতিবার কাঁচা ও রান্না করা দুই ধরনের নমুনাই খুলনার জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খুলনা জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা মোকলেছুর রহমান জানান, সংগৃহীত নমুনাগুলো বর্তমানে সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে কোনো পরীক্ষাগারে পাঠানোর আগে কী কারণে এমনটি হতে পারে, সেই সম্ভাব্য বিষয়গুলো (প্যারামিটার) নির্ধারণ করা জরুরি। এ জন্য রোববার প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে ল্যাব ও পরীক্ষার বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করা হবে।

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণের বিষয়ে এই কর্মকর্তা জানান, সাধারণত মাংস পচে গেলে এ ধরনের সবুজ রং ধারণ করার কথা নয়। ধারণা করা হচ্ছে, রান্নার সময় ব্যবহৃত কোনো উপাদান, পাতিল বা অন্য কোনো বাহ্যিক উপাদানের সঙ্গে মাংসের প্রোটিনের বিক্রিয়া ঘটে এমন রঙের সৃষ্টি হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, কড়াইয়ের মাংসে শুধু টুকরোগুলোর রং পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু ঝোলের রং স্বাভাবিক ছিল। এছাড়া ওই একই গরুর মাংস যারা কিনেছেন, তাদের কারও কাছ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ আসেনি। তাই ল্যাবরেটরির চূড়ান্ত প্রতিবেদন ছাড়া এখনই নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব নয়।

এদিকে মডার্ন বেকারির কর্মচারী লিটন হোসেন জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাছে দেখানোর পর তারা ওই মাংস ফেলে দিয়েছেন। তবে কৌতূহলী কয়েকজন দেখতে চাওয়ায় তাদের সামান্য কিছু অংশ দেওয়া হয়েছিল। এখন পরীক্ষার ফলাফলে কী আসে, সেটির অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

গত বুধবার সকালে পাইকগাছা বাজারের এক বিক্রেতার কাছ থেকে পিকনিকের জন্য চার কেজি গরুর মাংস কেনেন মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা। মাংসটি আগের দিন জবাই করা গরুর ছিল বলে জানা যায়। কর্মচারীদের দাবি, রান্না শুরুর কিছুক্ষণ পর মাংসের স্বাভাবিক লালচে রং বদলে নীলচে-সবুজ হয়ে যায়। এ ঘটনায় হতবাক হয়ে তারা রান্না করা মাংসভর্তি কড়াই নিয়ে প্রথমে মাংস বিক্রেতার কাছে এবং পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ও থানায় যান। অদ্ভুত এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।