টানা ব্যর্থতা কাটাতে ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তির শরণাপন্ন ইতালি

২০২৬ বিশ্বকাপে নরওয়ের কাছে হেরে ব্রাজিলের বিদায়ের পরও প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর পূর্ণ আস্থা রেখেছে সেলেসাওরা। ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তিবদ্ধ এই হেভিওয়েট কোচের দিকে এবার নজর পড়েছে টানা তিনবার বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হওয়া ইতালির। ডন কার্লোকে নিজেদের ডাগআউটে ফেরাতে ইতালি ফুটবল ফেডারেশন ইতিমধ্যেই তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।

গত ২১ জুলাই ইতালি ফুটবল ফেডারেশনের (এফআইজিসি) সভাপতি জিওভান্নি মালাগো জানিয়েছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপে ইতালির ব্যর্থতার পর গত এপ্রিলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া জেন্নারো গাত্তুসোর উত্তরসূরি হিসেবে পেপ গার্দিওলার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর পদে দায়িত্ব নেন ইতালির কিংবদন্তি পাউলো মালদিনি। তিনি জানালেন, গার্দিওলার পাশাপাশি বর্তমান ব্রাজিল কোচ আনচেলত্তির সঙ্গেও তারা কথা বলেছেন।

মালদিনি বলেন, ‘ইতালির ‘উচ্চাভিলাষী প্রকল্প’–এর অংশ হিসেবে বিশ্বের সেরা কোচদের দিয়েই খোঁজ শুরু হয়েছে। তবে আলোচনা কতটা অগ্রসর হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানাননি তিনি। শুধু বলেছেন, দুই কোচের সামগ্রিক প্রাপ্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সিরি আ’র সদর দপ্তরে এফআইজিসির সফর শেষে সাংবাদিকদের মালদিনি বলেন, ‘গার্দিওলা? আমরা এখনই কিছু নিশ্চিত করতে পারছি না। আপনারা আমাদের একটি লক্ষ্য ঠিকই চিহ্নিত করেছেন, তবে আমরা আনচেলত্তির সঙ্গেও কথা বলেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের সেরাদের দিয়েই শুরু করা স্বাভাবিক ছিল। তবে তাদের সামগ্রিক প্রাপ্যতা যাচাই করতে হবে।’ এ ছাড়া ইতালির কঠিন এই সময়ে নিজের দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে মালদিনি বলেন, ‘আমি অনেক দায়িত্ব ও চাপ অনুভব করছি। এখানে একটি উচ্চাভিলাষী প্রকল্প রয়েছে। ইতালি ডাকলে “না” বলা কঠিন। শুরুতে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ থাকবে, তা পুরোপুরি জানতাম না। তবে পরিবর্তন আনার সুযোগ এবং সবার নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার আগ্রহ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। প্রেসিডেন্ট মালাগোর বোঝানোর ক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘লিওকে (লিওনার্দো আরাউজো, এফআইজিসিতে মালদিনির উপদেষ্টা) রাজি করাতে আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। আমাদের মূল্যবোধ এক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধও রয়েছে। বৈঠকে সিরি আ আমাদের প্রকল্পগুলোকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। আমার এই পদটি আগে ছিল না।’

ক্লাব ফুটবলে ইউরোপের শীর্ষ কয়েকটি ক্লাবে দারুণ সফল ক্যারিয়ার গড়েছেন আনচেলত্তি। ২০২৪ সালে রিয়াল মাদ্রিদকে বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতানোর মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথম কোচ হিসেবে পাঁচবার এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জয়ের কীর্তি গড়েন তিনি। অন্যদিকে, গার্দিওলা ২০২৫-২৬ মৌসুম শেষে ১০ বছর পর ম্যানচেস্টার সিটির দায়িত্ব ছাড়েন। তার অধীনে সিটি ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, তিনটি এফএ কাপ, পাঁচটি কারাবাও কাপ এবং ২০২৩ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতে। সিটিতে তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সাবেক চেলসি কোচ এনজো মারেস্কা।