লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার, সামরিক উপদেষ্টা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রেন সরঞ্জাম বিমানে পাঠিয়েছে ইরান।
ইরানি দুটি সূত্র, ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী এবং একজন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকসহ চারটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে গত ১৩ জুলাই তেহরান থেকে মাহান এয়ারের একটি বিমানে ১০ থেকে ২১ জন আইআরজিসি সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো হয়।
সানা বিমানবন্দরে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের হামলার কারণে বিমানটি গতিপথ বদলে হুদায়দাহ বন্দরে অবতরণ করে, যেখানে হুথিদের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার প্রশিক্ষণ দিতে এবং কার্যক্রমে অর্থের জন্য স্বর্ণও পাঠানো হয়েছিল।
আইআরজিসি কমান্ডাররা পৌঁছানোর মাত্র তিন দিন পর ইরানের নির্দেশে হুথিরা লোহিত সাগরের তেল পথ বন্ধ করার প্রস্তুতি শুরু করে এবং সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা দিয়ে তেলের ট্যাংকারে হামলা চালায়, যা রিয়াদ ও হুথিদের চার বছরের যুদ্ধবিরতি বিনষ্ট করে।
ইয়েমেনের তথ্যমন্ত্রী মোয়াম্মার আল-ইরিয়ানি এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক মুজাহেম আলসালুম জানান যে পাঠানো চালানে স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ছিল, যা আন্তর্জাতিক নৌ নিরাপত্তা ও বাব এল-মানদেব প্রণালিতে নতুন হুমকি তৈরি করেছে।
তবে হুথি প্রচার কর্মকর্তা আবদেল রহমান আল-আহনোমি সামরিক কর্মকর্তা ও অস্ত্র পাঠানোর এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিমানটিতে কেবল সাধারণ যাত্রী ছিল বলে দাবি করেন। অপরদিকে ইরান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানান যে বিমানটি প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া হুথি প্রতিনিধি দল ও চিকিৎসাপ্রাপ্ত ইয়েমেনি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল।
সূত্র: রয়টার্স