দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর এখন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে কে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।
বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই নিজের পছন্দের প্রার্থীর নাম জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি রাজনীতিবিদদের মধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সবচেয়ে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ফেসবুকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে ড. আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘আমার মতে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ পদে যোগ্য ব্যক্তি। শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে তিনি মহাসচিব হিসেবে দলের হাল ধরেছেন, বহুভাবে নির্যাতিত হয়েছেন এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে তিনি মডারেট, সদাচারী ও সুবক্তা হিসেবে অগ্রগণ্য।’
স্ট্যাটাসে আসিফ নজরুল আরও লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ বোঝাপড়ার সম্পর্ক রয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার কাছে তিনি ছিলেন সন্তানসম একজন। বিএনপিতে উপযুক্ত আরও কেউ কেউ আছেন। তবে আমার মতে, সবদিক বিবেচনায় মির্জা ফখরুল এগিয়ে থাকবেন। রাজনীতিবিদদের মধ্যে কাউকে রাষ্ট্রপতি করা হলে তিনি সম্ভবত সেরা প্রার্থী।’
এর আগে শুক্রবার শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। দায়িত্ব ছাড়ার কারণ জানিয়ে পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, ‘আমি গুরুতর অসুস্থ। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছি। আমার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে। ইদানিং স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনমিক নিউরোপ্যাথি নামক রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে আমি মাঝে মাঝে ক্ষণিক অচেতন হয়ে যাই। রোগ সমূহের প্রাদুর্ভাবে শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আমার দীর্ঘ মেয়াদে চিকিৎসা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী আমি রাষ্ট্রপতির পদ হতে পদত্যাগ করছি।’