‘শত্রুর পূর্ণ পরাজয় না হওয়া পর্যন্ত হামলা চলবে’, হুঁশিয়ারি ইরানের নিরাপত্তা প্রধানের

শত্রুপক্ষ ‘সম্পূর্ণভাবে পরাজিত’ না হওয়া পর্যন্ত ইরানের লক্ষ্যভিত্তিক ও ধারাবাহিক সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এসএনএসসি) সচিব মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএর বরাতে তিনি বলেন, মিনাবে নিহত নিরীহ শিশুদের মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়া এবং শত্রুর বিরুদ্ধে পূর্ণ বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত ইরানি বাহিনীর নির্ভুল হামলা চলতে থাকবে।

তিনি বলেন, ‘শত্রু পুরোপুরি পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত এবং নিরপরাধ শিশুদের রক্তের প্রতিশোধ নেওয়া না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে চারটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

আইআরজিসির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণাংশ দিয়ে চারটি জাহাজ ‘অবৈধ ও অনিরাপদ’ রুটে চলাচলের চেষ্টা করছিল। সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার পর আইআরজিসির নৌবাহিনী জাহাজগুলোকে থামিয়ে দেয় এবং পরে সেগুলোকে গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করে।

তবে জাহাজগুলোর পরিচয়, কোন দেশের পতাকাবাহী ছিল কিংবা সেগুলোর ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানের এমন পদক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, জাহাজগুলোকে ইরানের জলসীমা ব্যবহার করতে বাধ্য করা এবং নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে অর্থ আদায়ের চাপ সৃষ্টিই তেহরানের উদ্দেশ্য হতে পারে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন করা হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।