যুক্তরাষ্ট্রের চাপে আইসিসির প্রসিকিউটর পদ থেকে অপসারিত করিম খান

গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান প্রসিকিউটর করিম খানকে অপসারণ করেছেন সংস্থাটির সদস্য রাষ্ট্রগুলো। ভোটাভুটির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে শুক্রবার (২৪ জুলাই) নিশ্চিত করেছে আইসিসি।

আদালতের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাহী ব্যুরো পরিচালনাকারী কূটনীতিকরা গত মাসে জানিয়েছিলেন, ব্রিটিশ ব্যারিস্টার করিম খান আইসিসির একজন জুনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন এবং তাকে বরখাস্ত করা উচিত। শুক্রবার আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের অধিকাংশই ওই সুপারিশের পক্ষে ভোট দেয়।

আদালতের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পাইভি কাউকোরান্তা বলেন, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ৮২টি রাষ্ট্রের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে নির্বাচিত কর্মকর্তা প্রসিকিউটর করিম খান গুরুতর অসদাচরণ এবং দায়িত্বের গুরুতর লঙ্ঘন করেছেন। ফলে তাকে তার পদ থেকে অপসারণ করা হবে।

৫৬ বছর বয়সী করিম খান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ভোটের পর তার আইনজীবী তাইয়াব আলী বলেন, তিনি এই সিদ্ধান্তের বৈধতা ও ন্যায্যতা সব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করবেন।

করিম খানকে অপসারণের ফলে অবিলম্বে আইসিসির নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আগামী বছরের আগে নতুন প্রসিকিউটর নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইন বিভাগের অধ্যাপক লেইলা সাদাত বলেন, আদালতের সদস্যরা দ্রুত ও দৃঢ়ভাবে পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্কিত ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারানো একজন কর্মকর্তাকে অপসারণ করেছেন, যাতে আদালত তার বিচারাধীন সব পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এগিয়ে নিতে পারে।

করিম খানের অপসারণ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে যে তারা আইসিসিকে ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন করে কূটনৈতিক প্রচারণা শুরু করবে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আইসিসি তাদের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি।

বৃহস্পতিবার ফিলিপাইন সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, আইসিসিতে কিছু উন্মাদ ও চরমপন্থী মানুষ রয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, কোনো মার্কিন রাজনৈতিক বা সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কখনোই ওই আদালতে বিচার হতে দেওয়া হবে না।

করিম খানের অপসারণের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, তিনি এই চরম দুর্নীতিগ্রস্ত সংস্থার একটি ছোট অংশ মাত্র। একই সাথে তিনি স্পষ্ট জানান, আজকের এই সিদ্ধান্তের ফলে আইসিসি বিলুপ্ত করার যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের রয়েছে, তাতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

সূত্র: রয়টার্স