বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ সরকারের ১২টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা, বোর্ড ও কর্পোরেশনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা দলীয় পদধারী দাবি করে এর কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন।
শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরের নেভি গলিতে এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আখতার এসব কথা বলেন। ‘জুলাই শ্রমিক জাগরণ’ শিরোনামে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তি।
তিনি বলেন, ‘যে প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হওয়ার কথা, সেখানে সরকার যদি দলীয় পদধারী নেতা-কর্মীদের নিয়োগ দেয়, তাহলে দেশে গণতন্ত্র কোনোভাবে অবশিষ্ট থাকে না। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।’
স্থানীয় সরকারের নির্বাচন না দিয়ে সিটি কর্পোরেশন থেকে ইউনিয়ন পর্যন্ত সব স্তরে ক্ষমতাসীন বিএনপির দলীয় ব্যক্তিদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর সমালোচনা করে অনুষ্ঠানে আখতার হোসেন বলেন, দলীয়ভাবে সবকিছুকে দখলে নিতে তারা এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রিকশা চালানো অবস্থায় চালকদের স্লোগান দেওয়ার ভিডিও দেখে সাহস পেয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু শ্রমিক শ্রেণির মানুষের নাগরিক অধিকার ও ন্যূনতম মানবিক মর্যাদা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। সামগ্রিকভাবে গোটা দেশকে যদি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পরিচালনা করা সম্ভব না হয়, তাহলে শ্রমিক শ্রেণিসহ কারও পক্ষেই সামনে এগোনো সম্ভব নয়। বাংলাদেশ রাষ্ট্রটিকে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীভাবে দাঁড় করাতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রতিষ্ঠানগুলোকে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালনা করতে আমরা গণভোটে অংশগ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা গণভোটের রায় এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করেনি।’
এদিকে, রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ। শ্রমিক শক্তির অনুষ্ঠান থেকে সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমরা চুপ্পুর (রাষ্ট্রপতির ডাকনাম) অপসারণ দাবি করেছিলাম। কিন্তু আপনারা তাকে অভিশংসন না করে পদত্যাগের সুযোগ করে দিয়েছেন, তাকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। আপনাদের হৃদয়ে অপরাধবোধ যদি আসে, তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করে পাপমোচনের চেষ্টা করুন।’
সরকারকে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে হান্নান মাসউদ বলেন, সরকার জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা নস্যাৎ করছে। একদলীয় শাসন কায়েম করতে সব স্তরে দলীয় প্রতিনিধি বসাতে তারা উঠেপড়ে লেগেছে। দলীয় প্রশাসক বসিয়ে তারা লুটেপুটে খেতে চায়।
অনুষ্ঠানে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন বলেন, রিকশা-ভ্যান শ্রমিকেরা জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছেন। কোনো কিছুর পরোয়া না করে তাঁরা আহত ভাইদের বিনা ভাড়া ও বিনা প্রশ্নে ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। এই রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যাঁদের অবদান, তাঁদের স্বীকৃতি ও মর্যাদার জীবন দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শ্রমিক শক্তির নেতা তৌফিকউজ্জামান পীরাচা আয়োজন সঞ্চালনা করেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, দলের যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি তারিকুল ইসলাম, রিকশাচালক ফরিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা–কর্মীরা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। বিভিন্ন খাতের শ্রমিকেরা আলোচনায় অংশ নিয়ে নিজেদের দুর্দশা, সমস্যা ও অভিযোগের কথা তুলে ধরেন এই অনুষ্ঠানে।
নতুন সংগঠনের ঘোষণা
এই অনুষ্ঠান থেকে জাতীয় রিকশা–ভ্যান চালক শক্তি নামে নতুন একটি সংগঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ও সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদকে পাশে রেখে নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।
রিকশা–ভ্যান চালক শক্তি শ্রমিক শক্তির সঙ্গে এনসিপির সহযোগী সংগঠন হিসেবে কাজ করবে। এই সংগঠনের প্রথম কমিটিতে সভাপতি হিসেবে ফয়সাল আহমেদ ও সদস্যসচিব মো. ওবায়দুল ইসলামের নাম ঘোষণা করেন আখতার হোসেন। এই দুই পদের পাশাপাশি আরও কিছু পদে নেতাদের নাম ঘোষণা করেন এই সংসদ সদস্য।