যুবককে তুলে নিয়ে হত্যার ঘটনায় গণপিটুনিতে অভিযুক্ত ইরান নিহত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলায় যুবক নাঈমকে অপহরণ করে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মো. নুরুল ইসলাম ওরফে ইরান (৪০) গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই হত্যা মামলার আসামি ও চিহ্নিত মাদক কারবারি ইরানকে বিক্ষুব্ধ জনতা পিটিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার এক সহযোগী গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে ইরানের আত্মগোপনের জন্য ব্যবহৃত একটি বসতঘরেও আগুন দেওয়া হয়।

শনিবার (২৫ জুলাই) গভীর রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ইরান এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে শামীম ও নাঈম নামে দুই যুবককে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুলাই রাতে ইয়াবা হারানোর অভিযোগ তুলে নাঈমকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ইরানের সহযোগীরা। এরপর তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের সময় তার হাত-পায়ের নখ উপড়ে ফেলা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া তুলে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নাঈমকে তাঁর বাড়ির পাশেই ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। স্বজনরা তাঁকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।

নাঈমের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। শনিবার রাতে জানাজা শেষে শত শত বিক্ষুব্ধ মানুষ ইরান ও তার সহযোগীদের খুঁজতে বের হন। প্রথমে ইরানকে না পেয়ে তাঁর এক সহযোগীকে গণপিটুনি দেওয়া হয়।

পরে খবর পাওয়া যায়, পশ্চিম ভাটেরখীল এলাকার একটি ঘরে ইরান আত্মগোপন করে আছেন। এ খবরের ভিত্তিতে স্থানীয়রা ঘরটি ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর ওই বসতঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

ওসি মহিনুল ইসলাম জানান, ইরান চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং দুটি হত্যা মামলার আসামি। নাঈম হত্যার ঘটনায় মামলা হওয়ার পর থেকেই তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছিল। তবে এর আগেই তিনি গণপিটুনির শিকার হন।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থল থেকে ইরানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গুরুতর আহত এক সহযোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুরো ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তদন্ত চলছে।

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।