ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও নেদারল্যান্ডসের ফরচুনা সিতার্দের একটি প্রীতি ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন নারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। এতে তিনি কনকাশনেও (মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা) আক্রান্ত হন।
শনিবার ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলের ফরবাখের শ্লসবের্গ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়। নতুন মৌসুমের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সংঘর্ষের সময় খেলোয়াড়দের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান দেমোঁসে। পরে তিনি আর দায়িত্ব পালন করতে পারেননি।
৩-১ গোলে হেরে যাওয়া ফরচুনা সিতার্দ তাদের ওয়েবসাইটের ম্যাচ প্রতিবেদনে ঘটনাটিকে ‘ব্যতিক্রমী একটি মুহূর্ত’ বলে উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে বিশেষ কোনো মন্তব্য করেনি। অন্যদিকে মেৎজ তাদের ওয়েবসাইটের ম্যাচ প্রতিবেদনে ঘটনাটির কোনো উল্লেখই করেনি।
এ ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের ৪০তম মিনিটে। জার্সি টানাটানিকে কেন্দ্র করে দুই দলের দুই খেলোয়াড় মুখোমুখি হন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপর দুই দলের আরও কয়েকজন খেলোয়াড় সেখানে জড়িয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে যান রেফারি দেমোঁসে, তবে খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কির মধ্যে পড়ে তিনি এক পর্যায়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে সেই দৃশ্য দেখা গেছে। ঘটনাটি ঘটে মাঠের যে জায়গায়, ঠিক তার পাশেই বড় করে লেখা ছিল-‘রেফারিকে সম্মান করুন’।
দেমোঁসে কয়েক মিনিট মাঠেই পড়েছিলেন। এ সময় তিনি নিজের হাত ধরে ছিলেন। তার শারীরিক অবস্থা দেখতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সহকারী রেফারি, নিরাপত্তাকর্মী ও চিকিৎসাকর্মীরা দ্রুত মাঠে ছুটে আসেন।
২৬ বছর বয়সী দেমোঁসে খেলা আবার শুরু হলে সহকারী রেফারির দায়িত্বে ফিরেছিলেন। তবে বিরতির সময় তিনি মাঠ ছেড়ে যান। পরে তার জায়গায় অন্য একজন সহকারী রেফারি দায়িত্ব নেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, তিনি কনকাশনে (মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা) আক্রান্ত হয়েছেন।