বাগেরহাটে আইনজীবী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৪, নেতৃত্বে ছিলেন নিহতের পূর্বপরিচিত—দাবি পুলিশের

বাগেরহাটে আইনজীবী নিজাম উদ্দিন শান্ত হত্যা মামলায় প্রধান সন্দেহভাজনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এ তথ্য জানান। এসময় তিনি জানান, রোববার রাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নের পিসি ডেমা গ্রামের শেখ মুরাদ (৪১), তার ছোট ভাই আবু তাহের দীপ ওরফে দিপু (২৯), কড়াপাড়া ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের হাফিজুর রহমান (৪৮) এবং শিপন শেখ (২৮)।

নিহত নিজাম উদ্দিন বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ছিলেন। গত শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় শনিবার রাতে নিহতের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রায় ৫০ ঘণ্টার মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন শেখ মুরাদ। তিনি নিহত আইনজীবীর পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল এবং প্রায়ই গভীর রাত পর্যন্ত একসঙ্গে সময় কাটাতেন। হত্যার দিনও রাত ১০টা থেকে মুরাদ ওই আইনজীবীর সঙ্গে ছিলেন। পরে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তিনি ও তার সহযোগীদের মোটরসাইকেল ও হেঁটে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়।

পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সঙ্গে ওই আইনজীবীর মতবিরোধের বিষয়টি জানা গেছে। তবে সেই বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে আসামিদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।