কাউন্সিলর একরামুল হত্যা মামলা: ব্রিগেডিয়ার মিফতাহ উদ্দিন সেনা হেফাজতে

কক্সবাজারের টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া মামলার আসামি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনীর একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সোমবার (২৭ জুলাই) দিবাগত রাতে সেনাবাহিনীর একটি সূত্র জানায়, তৎকালীন র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল (বর্তমানে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল) মিফতাহ উদ্দিন আহমেদকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বর্তমানে তিনি বরিশাল সেনানিবাসের স্টেশন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোমবার রাতেই তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

২০১৮ সালে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হক নিহত হওয়ার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে পলাতক আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার থাকা তিনজনকে হাজির করার নির্দেশ দেন।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফের কিরণতলীর হোটেল নেটংয়ের সামনে থেকে একরামুল হককে তুলে নেওয়া হয়। পরে রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে টেকনাফ সদর ইউনিয়নের নোয়াখালিয়া পাড়ার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় র‍্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন।

নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন।

একরামুল হকের বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে র‍্যাবের সাত বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। ওই তালিকায় তৎকালীন র‍্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের পাশাপাশি তৎকালীন র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক মিফতাহ উদ্দিন আহমেদের নামও ছিল।