শরীয়তপুরে সড়ক-সড়কবাতি প্রকল্পে অনিয়ম, লাইসেন্স বাতিলের ইঙ্গিত ইউএনওর

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় একাধিক সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং প্রভাব খাটিয়ে বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার শামিমের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেসার্স শামিম ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা পরিষদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও জাজিরা পৌরসভার আওতায় গত কয়েক অর্থবছরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জমাদ্দার মোড় থেকে ইঞ্জিনিয়ার ঘাট পর্যন্ত সড়ক, জাজিরা পুরাতন বাজারের পেছনের আরসিসি সড়ক এবং দুই দফায় সড়কবাতি স্থাপনসহ একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এসব প্রকল্পের অধিকাংশ কাজেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছে প্রায় ৮০ লাখ টাকার দুই দফার সড়কবাতি প্রকল্প নিয়ে। স্থানীয়দের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণকাজের কারণে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক সড়কবাতি অচল হয়ে পড়েছে। কাজ চলাকালে একাধিকবার স্থানীয়রা আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধ করলেও পরে তা পুনরায় শুরু করা হয়।

এ ছাড়া বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পেও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, নির্মাণসামগ্রী কম ব্যবহার এবং কাজের মান খারাপ হওয়ায় কয়েকবার কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে অসমাপ্ত কাজ শেষ করা হলেও মান নিয়ে প্রশ্ন থেকেই গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিম্নমানের কাজ করেও বিভিন্ন প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদার প্রকল্পগুলোর বিল তুলে নিয়েছেন। তবে এলজিইডি সূত্র জানিয়েছে, একটি সড়ক প্রকল্পের প্রায় ১৫ লাখ টাকার বিল কর্তন করা হয়েছে এবং কয়েকটি প্রকল্পের জামানতের অর্থ আটকে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদ ফকির ও সবুজ মাদবর বলেন, ঠিকাদারের প্রায় প্রতিটি প্রকল্পেই অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। নিম্নমানের কাজের কারণে সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জননিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে তারা দাবি করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রথমে ঠিকাদার শামিম ফোন ধরেননি। পরে তিনি সংবাদদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে অনিয়মের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে সড়কবাতি নষ্ট হওয়ার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলেও দাবি করেন।

এদিকে সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে ঠিকাদার সংবাদদাতার মোবাইল নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অর্থ পাঠানোর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

জাজিরা উপজেলার সদ্য বিদায়ী উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) ইমন মোল্লা বলেন, ঠিকাদারের বিরুদ্ধে একাধিকবার লিখিতভাবে আপত্তি জানানো হয়েছে। নিম্নমানের কাজের কারণে একটি প্রকল্পের বিলও কর্তন করা হয়েছে।

জাজিরা পৌরসভার প্রকৌশলী নুরুজ্জামান খান বলেন, সড়কবাতি প্রকল্প নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নষ্ট বাতিগুলো মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ টাকার জামানত ছাড়া ঠিকাদারের আর কোনো বিল বকেয়া নেই।

জাজিরা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-ইমরান বলেন, অভিযোগগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হচ্ছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।