হোটেল ভেবে রুম ভাড়া নিতে নারী কারাগারে পর্যটকের মেসেজ

ছুটি কাটাতে ফিলিপাইনের বাগুইও শহরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন এক নারী পর্যটক। অনলাইনে থাকার জায়গা বা হোটেল খুঁজতে গিয়ে ভুলবশত একটি নারী কারাগারের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি মেসেজ পাঠিয়ে বসেন। পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষের বিনয়ী উত্তর এবং পুরো ঘটনার বিবরণ ছড়িয়ে পড়তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ঘটনাটি ঘটে ফিলিপাইনের ব্যুরো অব জেল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড পেনোলজি (বিজেএমপি)-এর অধীনে থাকা বাগুইও সিটি জেল ফিমেল ডরমিটরিতে। ওই পর্যটক কারাগারের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটিকে কোনো হোটেল বা হোমস্টে ভেবে ভুল করেন। উইকেন্ডে থাকার জন্য কোনো ঘর ফাঁকা আছে কি না-তা জানতে চেয়ে ওই পেজে একটি বার্তা পাঠান তিনি।

পেজের দায়িত্বে থাকা কারা কর্মকর্তা বিষয়টি দেখে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ভুলটি শুধরে দেন। তিনি জবাবে লেখেন, ‘ম্যাডাম, এটি নারীদের একটি কারাগার।’

নিজের অবিশ্বাস্য ভুল বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গেই ক্ষমা চান ওই নারী।

পরবর্তীতে ওই পর্যটকের অনুমতি নিয়েই পুরো বার্তালাপের স্ক্রিনশট নিজেদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশ করে বিজেএমপি কর্তৃপক্ষ। হালকা মেজাজের পোস্টে তারা রসিকতা করে সবাইকে মনে করিয়ে দেয় যে, এটি একটি সংশোধনাগার বা কারাগার-ছুটি কাটানোর মতো কোনো বিনোদন কেন্দ্র বা হোটেল নয়।

পোস্টে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আরও উল্লেখ করা হয়, এটি হোটেল না হলেও আইনি বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী নিজেদের হেফাজতে থাকা বন্দীদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি প্রকাশ পাওয়ার পরপরই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবহারকারীরা ঘটনাটি নিয়ে দারুণ মজা পাওয়ার পাশাপাশি বিনয়ের সঙ্গে ইতিবাচক জবাব দেওয়ার জন্য কারা কর্মকর্তাদের প্রশংসায় ভাসান।

পোস্টের নিচে এক নেটিজেন রসিকতা করে মন্তব্য করেন, ‘এখানে একদম বিনা মূল্যে সকাল, দুপুর ও রাতের খাবার মিলবে, সঙ্গে ঘুমানোর ইউনিফর্ম তো থাকছেই!’

আরেকজন লেখেন, ‘বিনা মূল্যে থাকা-খাওয়া, আবার ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়ার জন্য গার্ডও আছে-নিরাপত্তার দিক থেকে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর কী হতে পারে!’

অন্য এক ব্যবহারকারী লেখেন, ‘ঘটনাটি বেশ মজার। অন্তত কারাগার থেকেও যে মেসেজের উত্তর মেলে, তা জানা গেল।’