টরন্টোর স্কারবরোর থমসন মেমোরিয়াল পার্কে দুই দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ফোক ফেস্ট ২০২৬।
বহুজাতিক কানাডার সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অনন্য উদযাপন হিসেবে গত ২৬ ও ২৭ জুলাই (শনিবার ও রোববার) অনুষ্ঠিত এ উৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সংগীত, নৃত্য ও সংস্কৃতির মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা উপস্থাপিত হয়।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কানাডার সংসদ সদস্য ডলি বেগম। তিনি বহুসাংস্কৃতিক কানাডায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক চর্চা, পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং বহুত্ববাদী সমাজ গঠনে এ ধরনের আয়োজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
ফোক ফেস্টে দেশ-বিদেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও সাংস্কৃতিক দল অংশ নেয়। তাদের মধ্যে ছিলেন অরি শালভা, পারিসা করিমি মোলান ও দ্য নাভায়ে কিমিয়া এনসেম্বল, কুইক এসকামিলা, নৃত্য ঝংকার একাডেমি, লিয়ান হুয়া আর্টস, সোলফুল সারাঙ্গি, বাক দে বাম্বা, ব্রাসা আমাজোনিকা, কন-ফিউশন, ফেথি নাদজেম, নৃত্য কলা কেন্দ্র, দ্য বিউটিফুল ওয়াহিনিস, ডিডিএ কানাডা, শিরিন চৌধুরী, বাউল শহীদ এবং ফকির শাহাবুদ্দিন।
উৎসবের শেষ দিনে বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় জনপ্রিয় শিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিন তাঁর প্রাণবন্ত পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন। তাঁর গান ও উপস্থাপনায় উৎসবের সমাপনী পর্ব হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন।
সাংবাদিক শওকত আলী সাগর বলেন, "গত পাঁচ বছর ধরে ফোক ফেস্ট বিভিন্ন জাতি ও সম্প্রদায়ের মানুষকে একত্রিত করে আসছে। বাংলাদেশি শিল্পীদের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরাও এখানে নিজেদের সংস্কৃতি তুলে ধরছেন।"
শিল্পী ফকির শাহাবুদ্দিন বলেন, "বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উৎসবমুখর উপস্থিতি ও আন্তরিক ভালোবাসায় আমি সত্যিই অভিভূত।"
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে থমসন মেমোরিয়াল পার্ক পরিণত হয়েছিল এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। সংগীত, নৃত্য ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক পরিবেশনায় মুখর এই উৎসব কানাডার বহুসাংস্কৃতিক চেতনার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হয়ে ওঠে।